ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্বামীর জবাই করা মাথা কোলে নিয়ে চিৎকার করছিলেন ফারজানা

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:০৭, ৯ অক্টোবর ২০২৩
স্বামীর জবাই করা মাথা কোলে নিয়ে চিৎকার করছিলেন ফারজানা
আটককৃত ফারজানা

রোববার সন্ধ্যা। ওই সময় প্রবাস ফেরত এমরান হোসেনের বাড়ি থেকে ভেসে আসে চিৎকার। সেই চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা গিয়ে দেখেন তাদের ফ্লাটের দরজা খোলা। আর স্বামী এমরানের জবাই করা মাথা কোলে নিয়ে চিৎকার করছিলেন স্ত্রী ফারজানা। এ সময় তার গলা সাদা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফারজানা আকতারকে আটক করেছে পুলিশ। 

ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারস্থ ট্রাক রোট রেলি অফিস অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাজীগঞ্জ-ফরিদগঞ্জ সার্কেল অফিসের সামনে একটি বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায়। 

আটককৃত ফারজানা ফরিদগঞ্জ উপজেলার ঝাঁকনী গ্রামের খান বাড়ির মেয়ে। নিহত এমরান হোসেনের ৮ বছর বয়সী আফরান নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। নিহত এমরান হোসেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর সুবিদপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের দালাল বাড়ির আবুল বাসারের ছেলে। 

Advertisement

নিহত এমরান হোসেনের বাবা আবুল বাসার জানান, এমরানের স্ত্রী ফারাজানার বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় পরকীয়ার অভিযোগে বিচার হয়েছিল। তার ছেলে না জানিয়ে গোপনে দেশে এসে হাতেনাতে স্ত্রীর পরকীয়া ধরেন। এ ঘটনায় ফারজানা এমরানকে তালাক দেয়। পরে শিশুসন্তানের কথা চিন্তা করে পুনরায় সংসার শুরু করেন তারা। পরকীয়ার জেরে আমার সন্তানকে স্ত্রীর হাতে জীবন দিতে হলো। 

এদিকে, হাসপাতালে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন এমরানের মা। তিনি ফারজানা ও তার পরকীয়া প্রেমিকের ফাঁসি দাবি করেন।

চিৎকার শুনে ওই বিল্ডিংয়ে ছুটে আসা শাহরাস্তি উপজেলার বলশিদ গ্রামের নাহার জানান, চিৎকার শুনে ওই বিল্ডিংয়ে গিয়ে দেখি ফ্লাটের দরজা খোলা। স্বামী এমরানের জবাই করা মাথা কোলে নিয়ে চিৎকার করছিলেন ফারজানা। এ সময় তার গলা সাদা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল।

আরেক প্রতিবেশী জিসান আহমেদ জানান, চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে দেখি পুরো ফ্লাট রক্তে ভরে আছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. আবদুর রশিদ জানান, নিহত এমরানের স্ত্রী ফারজানাকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!