রোববার বিকেলে উপজেলার কর্নপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি কেমিক্যাল কারখানার পাশে গভীর গজারি বনের ভেতর থেকে ঐ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
অপহৃত স্কুলছাত্র রামিমুল হাসান বিজয় (১৪) শ্রীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চন্নাপাড়া গ্রামের রুমান বেপারীর ছেলে। সে স্থানীয় শতদল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো।
.png)
স্থানীয় বাসিন্দা রিকশাচালক ফালান মিয়া বলেন, শ্রীপুর-গোসিঙ্গা পাকা সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধ পেয়ে কয়েকজনকে অবহিত করি। পরে তারা গভীর জঙ্গলে গিয়ে ঐ শিশুর গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে শিয়ালে খাওয়া পচা দুর্গন্ধযুক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
সরেজমিন দেখা যায়, মরদেহটি গভীর গজারি বনের ভেতর পড়ে রয়েছে। দেহ থেকে শরীর বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পেটের নাড়িভুঁড়ি কোনো কিছুই নেই। অবশিষ্ট রয়েছে শুধু হাড্ডি আর মাথা। কোমরের ওপরের অংশ শিয়াল-কুকুরে খাওয়া।
অপহৃত শিশুর বাবা রুমান বেপারী জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে বিজয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনরা সম্ভাব্য সব জায়গাতে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিজয়ের চাচা জুয়েল বেপারী শ্রীপুর থানায় জিডি করেন। এর আগে বিজয়ের বাবার মোবাইলে তারই নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম কার্ড থেকে ফোন করে বিজয় অপহরণ হয়েছে এবং তাকে ছাড়িয়ে নিতে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল অপহরণকারীরা।
জানা গেছে, বিজয়ের নিখোঁজের জিডি পাওয়ার পরপরই শ্রীপুর থানার একাধিক দল বিজয়কে উদ্ধারে মাঠে নামেন। জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জিহাদকে চন্নাপাড়া এলাকা থেকে ও নেত্রকোণার নান্দাইল থানার ধলিয়াপাড়া গ্রাম থেকে শামীমকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে, শ্রীপুরের কেওয়া চন্নাপাড়া থেকে বিজয়ের চাচা জুয়েল বেপারীকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ মরদেহের সন্ধান পায়।
শ্রীপুর থানার ওসি আবুল ফজল নাসিম বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। জিডির সূত্র ধরে তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আটককৃতদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বের করতে পুলিশ কাজ করছে।