এছাড়া কৃষি জমির পাশাপাশি বাড়ির আঙিনাতে করা টমেটো বাগানে কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েক’শ মানুষের। বছর জুড়ে মৌসুমভিত্তিক নানা ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিও।
জানা যায়, হাওর বেষ্টিত নাসিরগর উপজেলায় চলতি বছর প্রায় ৪০০ বিঘা জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। আবাদকৃত টমেটো বাগানগুলোর বেশির ভাগই বাড়ির আঙিনায় করা। ফলন ভালো হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরাও। বাগান থেকেই আকার ও মান ভেদে প্রতি কেজি টমেটো পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকা দরে।
.png)
নাসিরনগর উপজেলার কয়েকটি টমেটো বাগান ঘুরে দেখা গেছে, কেউ ঘাস পরিষ্কার করছেন। কেউ আবার ওষুধ ছিটাচ্ছেন। অনেক কৃষক নিজের জমির পাশাপাশি অন্যের জমি বর্গা নিয়েও টমেটোর চাষ করেছেন। আবার কেউ বাড়ির আঙ্গিনায় চাষ করেছেন এই টমেটো।
উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নে কৃষক হাসিম মিয়া জানান, সারা বছর এই জমি পতিত পড়ে থাকতো। হঠাৎ করে মাস তিনেক আগে কৃষি অফিসের লোকজন এসে বলল গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাষ করা যায়। পরে তাদের পরামর্শে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে জমিতে টমেটোর চারা রোপণ করেন। এখন পর্যন্ত দুই লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন।
গোকর্ণ ইউনিয়নের আরেক কৃষক আবুল কাশেম বলেন, ৬০ শতাংশ পতিত জায়গা মহাজন থেকে বর্গা নিয়ে আগাম জাতের টমেটো চাষ করি। আমার খরচ হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা। আমি এই পর্যন্ত তিন লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পেরেছি।
গোকর্ণ ইউপির বাড়ির আঙ্গিনায় টমেটো চাষ করা কৃষক রফিক মিয়া জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শে বাড়ির পতিত জায়গায় টমেটো চাষ করেছি। টমেটো চাষে ফলন ও ভালো হয়েছে। প্রায় ২৫ শতাংস জায়গায় এ টমেটো চাষ করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুশান্ত সাহা বলেন, জেলার প্রতিটি উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের উদ্যোক্তা তৈরি করছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার ১২৮ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ হয়েছে। পুরো জেলা থেকে প্রায় ৫১ কোটি টাকার টমেটো বাজারজাত হবে। ফলন বাড়াতে কৃষকদের নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।