ভাদ্র মাস এবং তাল নিয়ে এমন বহু প্রবাদ ও জনপ্রিয় গান ছড়িয়ে আছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। লোকমুখে প্রচলিত আছে, ভাদ্র মাসের গরমে তাল পাকে। তাই ভাদ্র মাসের সঙ্গে তালের একটা সম্পর্ক রয়েছে।
আর এসব পাকা তালের রস দিয়ে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের বিভিন্ন গ্রামের ঘরে ঘরে চলছে তালের পিঠা তৈরির উৎসব। শুধু পিঠা নয় কেউবা তালের রস দিয়ে বড়া আবার কেউ কেউ তৈরি করছেন সুস্বাদু পায়েস।
.png)
সরেজমিনে কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা তালের রসের পিঠা তৈরি করা হচ্ছে। ধূলজুরী গ্রামের সাবেক শিক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, ভাদ্র মাসে তালের পিঠা না খেলে যেন একটা অপূর্ণতাই থেকেই যায়। তালের রসের পিঠা খুবই সুস্বাদু।
পৌর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল জানান, তারা তালের পিঠা খেতে তালে শাঁস থাকা অবস্থায় গাছ বিক্রি করেননি। বর্তমানে তার গাছ থেকে পাকা পাকা তাল পড়ছে বলেও জানান তিনি।
জানা যায়, ভাদ্র মাস থেকেই বাজারে উঠতে থাকে পাকা তাল। যা দিয়ে নানা রকম সুস্বাদু পিঠা বানানো হয়। পাকা তালের মিষ্টি ঘ্রাণে মন ভরে যায়। গ্রামে-শহরে ঘরে ঘরে তালের পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায়। ভাদ্র মাসে প্রতিটি ছোট-বড় বাজারেই পাকা তাল পাওয়া যায়। তবে পাকা তালের রস করা অপেক্ষাকৃত কঠিন। রস বের করে তা কাপড়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখতে হয়। তাহলে তালের বিষপানি পড়ে যায়। প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা এই তালের রস ঝুলিয়ে রেখে তারপর রস দিয়ে পিঠা বা পায়েস তৈরি করা হয়।
এ সময় মেয়েরা বাবার বাড়ি বেড়াতে আসেন বা বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান মেয়ের মা-বাবা। ভাদ্র মাসে জামাইকে তালের পিঠা খাওয়ানো একটা অন্যরকম অনুভূতির বিষয় ছিল। যা গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি অংশ। তবে এই সংস্কৃতি বর্তমানে তেমনটা নেই বললেই চলে।
এলাকাবাসী জানান, এখন বাজারে পাকা তালও কম পাওয়া যায়। কারণ গ্রীষ্মের দাবদাহে তালের শাঁস বিক্রি করে ফেলেন। তাই অনেক গাছ হয়ে পড়ে তালশূন্য।
তারা আরও বলেন, ভাদ্রের তালের পিঠার আমেজ চলতে থাকুক বাংলার ঘরে ঘরে। আমাদের নতুন প্রজন্ম এ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হোক। বেঁচে থাকুক আমাদের সংস্কৃতি।