ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আমনের চারা রোপণে বেড়েছে শ্রমিকদের কদর 

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত: ২২:১৪, ১৯ আগস্ট ২০২৩
আমনের চারা রোপণে বেড়েছে শ্রমিকদের কদর 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী আখাউড়া উপজেলা। এ উপজেলার বেশিভাগ লোকজন কৃষি কাজে জড়িত। এখন চলছে আমনের মৌসুম। আমন চারা আবাদ নিয়ে উপজেলার সর্বত্র চলছে উৎসবের আমেজ। এরইমধ্যে স্থানীয় কৃষকরা রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জমিতে হাল চাষ, সেচ দিয়ে জমি প্রস্তুত করেছে। পুরোদমে চলছে জমিতে চারা রোপণের কাজ। এতে শ্রমিকদের কদর বেড়েছে।

শ্রমিকরা চারা রোপণে তৈরি করছেন গ্রুপ। একেক গ্রুপে রয়েছেন চার থেকে ছয়জন শ্রমিক। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত তারা তিনি থেকে চার বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপণ করছেন। প্রতি বিঘা জমি রোপণে ১৬শ’ টাকা থেকে ১৮শ’ টাকা নিচ্ছেন তারা। চারা রোপণে শ্রমিকরা বাড়তি আয় করতে পেরে বেজায় খুশি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আখাউড়ায় চলতি মৌসুমে প্রায় চার হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে যা ২০০ হেক্টর বেশি। রোপণকৃত জমির মধ্যে উচ্চফলনশীল জাতের ব্রি-৮৫, ৮৭, ৯৩, ৯৪, ৯৫ ধান রয়েছে। এ মৌসুমে আমন ধান রোপণের জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে ৬০০ কৃষককে পাঁচ কেজি বীজ ধান, ১০ কেজি এমওপি এবং ১০ কেজি ডিওপি সার প্রণোদনা দেওয়া হয়।

Advertisement

সরেজমিনে পৌর এলাকায় তারাগন, দেবগ্রাম, নারায়নপুর, উপজেলার নুরপুর, হীরাপুর, উমেদপুর, ধাতুরপহেলাসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, স্থানীয় কৃষকরা আমন ধান আবাদে জমি প্রস্তুত, চারা উত্তোলন ও রোপণের কাজে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে আমন চাষ আবাদে শ্রমিক সংকট থাকায় মজুরিও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পৌরশহরের তারাগন এলাকার কৃষক মো. জমির খাঁন বলেন, চলতি মৌসুমে আট বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করার ইচ্ছা আছে। এরইমধ্যে পাঁচ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছি। বাকি জমিতে আবাদ করতে প্রস্তুতি শেষ।

কৃষক মো. লোকমান মিয়া জানায়, গত মৌসুমে তিনি ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তাই এ মৌসুমে তিনি ৮ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করতে জমি প্রস্তুত করেছেন। এরইমধ্যে দুই বিঘা জমিতে আমন ধানের চারা লাগানো শেষ হয়েছে। এজন্য চুক্তিতে প্রতি বিঘায় চারা লাগাতে শ্রমিককে দিতে হয়েছে ১৬শ’ টাকা।

স্থানীয় কৃষি শ্রমিক মো. শাহ আলম বলেন, এক সপ্তাহ ধরে আমন চারা রোপণের কাজ চলছে। চুক্তির মাধ্যমে জমিতে কাজ করছি। প্রতি বিঘা জমিতে চারা রোপণ করতে ১৬শ’ থেকে ১৮শ’ টাকা নেয়া হচ্ছে। কাজের চাহিদা ভালো থাকায় একজন শ্রমিক দৈনিক এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকা আয় করতে পারছেন।

উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, আখাউড়ার স্থানীয় কৃষকরা পুরোদমে আমন ধান আবাদ শুরু করেছেন। জমি প্রস্তুত, চারা উত্তোলন ও রোপণের কাজে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ফলন বৃদ্ধিতে আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদেরকে উচ্চফলনশীল ধান আবাদে উৎসাহিত করছি।

তিনি আরো বলেন, গত বোরো মৌসুমে ধানের ফলন ও বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। সেই আশা থেকে চাষিরা আমন রোপণ শুরু করছেন। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
ট্যাগ: আখাউড়া ধান
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!