বৃষ্টি নির্ভর আমন ধান। ইরি-বোরো ধান কাটার এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে জমিতে রোপণ করতে হয় আমনের চারা। আষাঢ়েও দেখা মেলেনি বৃষ্টি। কিছুটা দেরি হলেও আমনের ধান রোপণ শুরু হয়েছে। শ্রাবণের শেষ সময়ে ঘন ঘন বৃষ্টি যেন কৃষকদের আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। চাষিরা জমিতে হালচাষ ও চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, এ বছর নওগাঁয় এক লাখ ৯৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ থেকে প্রায় নয় লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে। ১২শ’ টাকা মণ হিসেবে যার বাজারমূল্য প্রায় দুই হাজার ৯০১ কোটি টাকা।
.png)

মান্দা উপজেলার বর্দ্দপুর গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিয়ে আমনের চারা রোপণ করা হতো। কিন্তু এবার পানি সংকটের কারণে আমনের চারা রোপণ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে বৃষ্টির অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অবশেষে বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে পানি জমেছে। হালচাষ দিয়ে আমি আড়াই বিঘাতে আমনের চারা রোপণ করেছি। আল্লাহ বৃষ্টিকে আশীর্বাদ হিসেবে দিয়েছেন। বৃষ্টি হওয়ায় প্রায় ২২শ’ টাকা খরচ বেঁচেছে।
মহাদেবপুর উপজেলার খদ্দনারায়নপুর গ্রামের কৃষক রামচন্দ্র পাল বলেন, আমন মৌসুমে জমিতে প্রায় দুই হাজার টাকার পানি সেচ লাগে। একবার বৃষ্টিতে বিঘা প্রতি ৩০০ টাকা খরচ বেঁচে যায়। বৃষ্টির পানিতে ফলনও ভালো হয়। ঘন ঘন বৃষ্টিতে বাড়তি সেচ দিতে হচ্ছে না। এতে প্রতি বিঘায় অন্তত এক হাজার টাকা খরচ কম হচ্ছে।

শ্রমিক কালাম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বসে থাকার পর বৃষ্টি হওয়ায় আমাদের কাজের চাপও বেড়েছে। চারজন একসঙ্গে কাজ করছি। প্রতি বিঘায় চারা রোপণে মজুরি নেয়া হচ্ছে দেড় হাজার০ টাকা। সে হিসেবে এ মৌসুমে জনপ্রতি প্রায় সাত হাজার টাকা আয় হবে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, আমন চাষে উদ্বুদ্ধ করতে ১১ হাজার কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে উন্নত জাতের বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। গত বছর ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও এ বছর আগস্ট মাসে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে কৃষকদের খরচ কিছুটা কমেছে। এরইমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৭৪ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। অনাবৃষ্টিতে চার রোপণে কিছুটা বিলম্ব হলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।