বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ্ আসামির উপস্থিতিতে আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামি নিহত গৃহবধূর স্বামী আসিকুল হক ও ফুফু শাশুড়ি বিবি হাওয়া আক্তারকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।
.png)
মামলার অন্য আসামি মাসিকুল হক অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় শিশু আদালতে তার বিচার চলমান রয়েছে। এছাড়া নিহত গৃহবধূর শ্বশুর ও আসামি আনোয়ারুল হক বিচার চলাকালীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট এম. এ. আফজল।
মামলার প্রাথমিক বিবরণে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া গ্রামের নাজির মিয়ার মেয়ে পাপিয়া আক্তারের সঙ্গে করিমগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ উলুখলা গ্রামের আসিকুল হকের ২০১৩ সালে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পাপিয়া আক্তারের শ্বশুর আনোয়ারুল হক, শাশুড়ি পারুল আক্তার, দেবর মাসিকুল হক ও ফুফু শাশুড়ি বিবি হাওয়া আক্তারের পরামর্শে স্বামী আসিকুল হক দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবি করেন এবং টাকার জন্য অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করেন। এরই মাঝে গৃহবধূ পাপিয়া অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আসামিরা অত্যাচারের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেন।
২০১৫ সালে ২ মে যৌতুকের জন্য মারপিট করেন, একপর্যায়ে পাপিয়ার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পাঁচদিন পর ৭ মে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত পাপিয়া আক্তারের ভাই সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর ও ফুফু শাশুড়িকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করিমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে গৃহবধূ পাপিয়া আক্তার মারা গেলে মামলার সঙ্গে হত্যা মামলা সংযুক্ত হয়।
একই বছর ২৪ ডিসেম্বর করিমগঞ্জ থানার তৎকালীন এসআই এস এম জহিরুল ইসলাম মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট এম. এ. আফজল রাষ্ট্রপক্ষের ও অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক মাখন আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন।