রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) পক্ষ থেকে মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ অভিযানসহ জরিমানা করা হচ্ছে। মূলত আষাঢ়ের বৃষ্টির পরপরই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। তাছাড়া পরিত্যক্ত জায়গায় জমে থাকা পানির কারণেই মশার উপদ্রব বাড়ছে।
সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের কীটতত্ত্ব বিভাগের জরিপে বলা হয়েছে, রাজশাহী নগরীর ৩৮ শতাংশ পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ক্ষতিকর এডিস মশা আছে ১৩ শতাংশ। ব্রুটো ইনডেক্স (এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপের সূচক) রয়েছে ৪৬ শতাংশেরও ওপরে। নগরীর পাঁচটি ওয়ার্ডে ৭৫টি স্থানের লার্ভা সংগ্রহ করে ২৮টিই মিলেছে এডিস মশার লার্ভা।
.png)
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ব্রুটো ইনডেক্সের পরিমাণ ২০ শতাংশের বেশি হলে সেই অঞ্চলকে ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। আর রাজশাহী নগরীতে ব্রুটো ইনডেক্সের পরিমাণ ৪৬.৬৭ শতাংশ। সেই হিসেবে রাজশাহী ‘অধিকতর ঝুঁকি’র মধ্যে রয়েছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত এক আত্মীয়কে দেখে শাইলা বেগম নামে এক নারী বলেন, আমার চাচাতো ভাই ঢাকা থেকে আসার কয়েকদিন পরই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে, রামেক হাসপাতালের ৩০ নম্বর ডেঙ্গু ওয়ার্ডেই গত ১২ ঘণ্টায় ৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত একজন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে মোট ৩২ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এছাড়া এ পর্যন্ত মোট ৯৪ জন ব্যক্তি হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়েছেন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬১ জন।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাসিক বছরে প্রায় কোটি টাকা ব্যয় করছে শুধু মশা নিধনেই। যার সুফল পাচ্ছে নগরবাসী। তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় সোমবার (১৭ জুলাই) ১৫ দিনের বিশেষ অভিযান শুরু করেছে রাসিক। এই অভিযানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, ড্রেন পরিষ্কার, লার্ভিসাইড দিয়ে মশার লার্ভা ধ্বংসসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রায় ১৩০০ কর্মী এই কাজে নিয়োজিত থাকবেন। বিশেষ অভিযান শেষে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে রাসিক কর্তৃপক্ষ।
রাসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থায়ী কমিটির সভাপতি সরিফুল ইসলাম বাবু জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তারা সজাগ রয়েছেন। সোমবার থেকে ১৫ দিনব্যাপী অভিযানের উদ্বোধনও করা হয়েছে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু রাসিকের পক্ষে সম্ভব না। নগরবাসীকেও এগিয়ে আসতে হবে।