সোমবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ ঘোষণা করেন। জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যা মামলায় গৃহবধূ তাহমিনা জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন। রায়ের সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তাহমিনার পরকীয়া প্রেমিক জসিম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত তাহমিনা রামগঞ্জ উপজেলার সাউদেরখিল গ্রামের মফিজুল ইসলামের মেয়ে এবং একই উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের কবির হোসেনের স্ত্রী। এ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত জসিম রাঘবপুর গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে।
.png)
জানা যায়, তাহমিনা এবং তার চাচাতো ভাসুর জসিমের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালের ২১ এপ্রিল রাতে তাহমিনা ও জসিম অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। ঘটনাটি তাহমিনার শাশুড়ি রাহেমা দেখে ফেলেন। এতে জসিম তাকে ধাক্কা দিয়ে খাটের ওপর ফেলে দেন। একপর্যায়ে রাহেমা চিৎকার করতে গেলে জসিম বালিশ চাপা দিয়ে তার শ্বাসরোধ করেন। এ সময় তাহমিনা তার শাশুড়ির দুই পা চেপে ধরেন। এতে রাহেমার মৃত্যু হয়। পরে জসিম ঘর থেকে বের হয়ে যান। আশপাশের লোকজন ঘটনাটি টের পেয়ে ঘরের সামনে এসে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনার পরের দিন রাহেমার স্বামী আবু তাহের বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে হত্যা মামলায় তাহমিনাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ঘটনার ছয়দিন পর ২৭ এপ্রিল জসিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ আদালতে সোপর্দ করে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার আদালত এ মামলার রায় প্রদান করেন।