মঙ্গলবার সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জি আযম এ রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম শচীন্দ্রনাথ মণ্ডল ওরফে ইব্রাহীম খলিল। তিনি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার চুনাখালি গ্রামের কিশোরী মোহন মণ্ডলের ছেলে।
.png)
জানা যায়, ২০০৯ সালের মার্চ মাসে শ্যামনগরের চুনাখালি গ্রামের শচীন্দ্রনাথ মণ্ডল ধর্মান্তরিত হয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার খড়িতলা গ্রামের আরশাদ আলী শেখের মেয়ে আফরোজা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর শচীন্দ্রনাথ মণ্ডলের নাম হয় ইব্রাহীম খলিল। তিনি ভারতে পীরের মাজারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে স্থানীয় সুশান্ত মণ্ডল বাচ্চু, সুশীত ওরফে বড় চুন্নু, সাইফুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ ও নিমাই বাগদীর সহযোগিতায় ঐ বছরের ৩০ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইছামতী নদী পার করে আফরোজাকে ভারতে নিয়ে যান। পরে তাকে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।
ভারত থেকে কৌশলে পালিয়ে দেশে ফিরে ২০০৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শচীন্দ্রনাথ মণ্ডলসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আফরোজা কালীগঞ্জ থানায় একটি মানবপাচারের মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সব আসামিকে গ্রেফতার করলেও জামিনে মুক্তি পেয়ে প্রধান আসামি পালিয়ে যান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক লস্কর জায়াদুল হক এজাহারভুক্ত ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ২০১০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। জামিন পাওয়ার পর দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকা নিমাই বাগদীকে পুলিশ ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে গ্রেফতার করে।
মামলার ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি শেষে শচীন্দ্রনাথ মণ্ডল ওরফে ইব্রাহীম খলিলকে ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো পাঁচ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।