ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কুষ্টিয়ায় জুয়া খেলা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৮

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০১:৫২, ২০ মে ২০২৩
কুষ্টিয়ায় জুয়া খেলা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৮
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুষ্টিয়ায় ক্যারামবোর্ডে এবং আইপিএলে জুয়া খেলা নিয়ে বিরোধে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ওমর আলী (৬৫) ও মিরাজ হোসেন (৫০) নামে উভয় পক্ষের দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারী পুরুষসহ আহত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরো ৮ জন।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের বোয়ালদহ গ্রামের কান্তিনগর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওমর আলী কান্তিনগর এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে ও মিরাজ হোসেন শুকলাল সর্দারের ছেলে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় আবারও বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় কান্তিনগর মোড়ের আরিফের দোকানে ক্যারামবোর্ড খেলার সময় এবং টিভিতে আইপিএল খেলায় বিভিন্ন বয়সী লোকজন অর্থের বিনিময়ে বাজি ধরে জুয়া খেলতো। শুক্রবার সন্ধ্যায় আরিফের দোকানে একইভাবে জুয়া খেলা শুরু হলে একই গ্রামের মিরাজ আলী তাতে বাধা দেন এবং জুয়া খেলতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে মিরাজ আলীর সঙ্গে আরিফের ভাই সাহেব আলীর কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং আরিফের দোকানে ক্যারামবোর্ড এবং আইপিএল খেলা দেখা বন্ধ করে দিয়ে আসে।

এরই জের ধরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আবারও উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে দেশীয় ধারালো অস্ত্রের কোপে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন জখম হন। হাসপাতালে নিলে প্রথমে ওমর আলী ও পরে মিরাজ আলীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আহত আঞ্জুয়ারা খাতুন, কারিবুল ইসলাম, বাবুল হোসেন, মান্নান, আব্দুল মান্নান, সহিদ হোসেনসহ ৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মিরাজ আলীর ভাই সিরাজ আলী বলেন, ওই দোকানে জুয়া খেলা চলতো, এলাকার ছেলেরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো। আমার ভাই এ বিষয়ে নিষেধ করলে তারা আমার ভাইকে মারধর করে। এ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মারামরি শুরু হলে তারা আমার ভাইকে কুপিয়ে জখম করে। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার আমার ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ওমর আলীর ভাই বলেন, ক্যারাম খেলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। সে বিষয়ে পুলিশ মিমাংসা করে দেয়। তারপরে রাতে ওরা লোকজন নিয়ে আমার ভাইসহ তাদের লোকজনের ওপর হামলা করে। এতে আমার ভাই মারা যায়। ওরা মিমাংসার পরেও ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা চালিয়েছে।

জানতে চাইলে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন দুইজনের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ক্যারামবোর্ডে টাকা দিয়ে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের পরে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েজনকে আটক করা হয়েছে এবং দোষীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। নিহত দুইজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!