পরবর্তীতে আরও অনেকবার তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন আসাদুল। আর এতেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ওই নারী। আর এরপরেই ঘটে রোমহর্ষক ঘটনা। ওই নারীর গর্ভপাত করে ভ্রুণ পলিথিনে মুড়িয়ে পুঁতে রাখা হয় মাটিতে।
এমন ঘটনা বগুড়ার ধুনট উপজেলার সাগাটিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় আসাদুল শেখসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার অন্যজন হলেন ফরহাদ হোসেন। তিনি উপজেলার রুদ্রবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় পল্লী চিকিৎসক ফরহাদ। ওই নারীর গর্ভপাত করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। আর আসাদুল সাগাটিয়ার পার্শ্ববর্তী হিজুলী গ্রামের বাসিন্দা।
.png)
জানা গেছে, স্বামী তাকে ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন ভুক্তভোগী নারী। এ সময় আসাদুলের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। আসাদুল বিধবা ভাতার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে বিভিন্ন সময় আরও অনেকবার তাকে ধর্ষণ করেন আসাদুল। একপর্যায়ে ওই নারী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হলে গত ২১ এপ্রিল তার গর্ভপাত করানো হয়। আসাদুল পল্লী চিকিৎসক ফরহাদের চিকিৎসায় ওই নারীর নিজ বাড়িতেই তার গর্ভপাত করান। পরে ভ্রুণ ওই নারীর বাড়ির পাশে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।
তবে বিষয়টি আর গোপন থাকেনি। স্থানীয়রা জেনে যায়। খবর পেয়ে রোববার মধ্যরাতে ভ্রুণ উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় পুলিশ। একইসঙ্গে নিজ বাড়ি থেকে পল্লী চিকিৎসক ফরহাদকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে সোমবার সকালে এসব ঘটনায় ধুনট থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। মামলার পর ফরহাদকে গ্রেফতার দেখানো হয়। আর রাতে অভিযান চালিয়ে সাগাটিয়া গ্রাম থেকে আসাদুলকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।
জানতে চাইলে ধুনট থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল ফরহাদকে কারাগারে পাঠানো হয়। আজ আসাদুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত দুজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই নারীর দাবি অনুযায়ী তিনি ছয়মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মাটিতে পুঁতে রাখা ভ্রুণ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।