পরিবারের সদস্য আর স্বজনদের চাহিদা মেটাতে পছন্দের পোশাকের খোঁজে ছুটছেন তারা এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানায়, গত তিন বছর বৈশ্বিক মহামারি করোনার থাবায় তারা রমজানে ব্যবসা করতে পারেননি। ফলে আর্থিকভাবে তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হন। তবে এবার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা কোমর বেঁধে নেমেছেন।
.png)
রমজানের শুরুতেই দোকানগুলোতে মালামালে ভরপুর করে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। শুরুতেই বিপুলসংখ্যক ক্রেতা সমাগমে ও বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদেরকে আকৃষ্ট করতে প্রতিটি মার্কেটে দেশি বিদেশি নামিদামি ব্যান্ডের পোশাকের সমাহার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন দোকানিরা। নিত্য নতুন পোশাকে এরমধ্যে ভরে গেছে সবকটি মার্কেট। তবে আয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে অধিকাংশ ক্রেতাই হিমসিম খাচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর শহরের সড়ক বাজারের মোটর স্ট্যান্ড মার্কেট, সিটি কর্নার মার্কেট, সরকার প্লাজা, গোল্ডেন প্লাজা, সিঙ্গাপুর মার্কেট, চৌধুরী কমপ্লেক্স, খান টাওয়ারসহ বিভিন্ন মার্কেটে নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড়। চলছে জমজমাট কেনাবেচা।
প্রতিটি মার্কেটে শোভা পাচ্ছে স্কাট, টপস, থ্রিপিচ, জিন্স প্যান্ট, জামদানি শাড়ি, বেনারশি, কাতান, সিল্ক, জর্জেট জয়পুরি, ছেলেদের নবাবী পাঞ্জাবি, ফতুয়া, টি-শার্ট পেন্ট এবং ছোট ছেলে-মেয়েদের জন্য বাহারি ডিজাইনের তৈরি পোশাক। তাছাড়া রয়েছে জামদানি বেনারশি, কাতান, সিল্ক, জর্জেট জয়পুরি শাড়িও। তবে গরমের কারণে হাল্কা সুতি কাপড়ের প্রধান্য বেশি রয়েছে বলে একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন।
পৌর শহরের মোটর স্ট্যান্ড মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. আবু ছায়েদ মিয়া জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ঈদের কেনাকাটা রোজার শুরু থেকেই চলছে। তাই ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন পোশাকের সমাহার ঘটিয়েছেন। দৈনিক ভালো বিক্রিও হচ্ছে। বিক্রি ভালো হওয়ায় তিনি খুবই খুশি।
মদিনা বস্ত্রালয়ের মো. আইনুল ইসলাম জানান, রোজার শুরুর দিকে থ্রি-পিস, জামদানি শাড়ি, বেনারশি, কাতান, সিল্ক বেডশিট, পর্দার কাপড়, লুঙ্গি, থান কাপড়সহ প্রয়োজনীয় মালামাল তোলা হয়েছে। সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় থাকছে। বিক্রিও ভালো হচ্ছে। এবার ব্যবসা ভালো হবে বলে তিনি আশা করছেন।
শিরিন আক্তার লাকি জানান, ছেলে-মেয়ে ও স্বামীকে পছন্দ করে কাপড় কিনে দিতে তিনি মার্কেটে এসেছেন। ঘুরে দেখে থ্রি-পিস, শার্ট ও পাঞ্জাবি ক্রয় করেন। এবার সব কাপড়ের দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। যে বাজেট করে আসা হয়েছিল তার থেকে বেশি লেগে যাওয়ায় নিজের জন্য কিছুই ক্রয় করতে পারেননি বলে জানান।
গৃহিণী তাহমিনা আক্তার বলেন, ছেলে ও মেয়ের জন্য ঈদ পোশাক কিনতে বাজারে আসা। অনেক পোশাক দেখেছি কিন্তু মনে হচ্ছে পোশাকের অনেক দাম। অবশেষে আড়াই হাজার টাকা দিয়ে একটি থ্রি-পিস কিনেছি।
মো. বিল্লাল মিয়া বলেন, ৬ বছর পর এবার দেশে আসলাম। তাই ছেলে ও মেয়েসহ পরিবারের সদস্যদের ঈদের নতুন পোশাক কেনার জন্য আগে-ভাগেই মার্কেটে আসা। বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ঘুরে দেখে শেষ পযর্ন্ত থ্রি-পিস, শার্ট, জিন্স প্যান্ট ও শাড়ি ক্রয় করেছি। মার্কেটের প্রতিটি দোকানে উপচেপড়া ভিড়। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে এসব কেনা হয়েছে।