মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মনোজ দে বলেন, আবির আলীর ঘরের মালামাল রাখার শেডে জমে থাকা রক্তের সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছিল। আর আয়াতের ডিএনএ প্রোফাইল করা হয় সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে। সম্প্রতি সেই সোয়াবের সঙ্গে ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়ার প্রতিবেদন ল্যাব থেকে আমরা হাতে পেয়েছি।
তিনি বলেন, মামলার তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে। এখন আরেকটি প্রতিবেদনের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। সেটি পেলেই অভিযোগপত্র জমা দিতে পারবো।
.png)
জানা যায়, গত বছরের ১৫ নভেম্বর বিকেলে পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছমুন্সী বাড়ির সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত। ঐ ঘটনায় একইদিন রাতে ইপিজেড থানায় জিডি করেন সোহেল রানা।
আয়াত নিখোঁজের ৯ দিনের মাথায় ২৪ নভেম্বর রাতে ইপিজেড থানার আকমল আলী সড়কের পকেট গেট এলাকা থেকে সন্দেহভাজন আবির আলীকে আটক করে পিবিআই। আটকের পর তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে খোলে ঘটনার জট। পিবিআইর কাছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিতে থাকেন আবির।
আবির জানান, আয়াতকে অপহরণ করে ছয়-সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা ছিল তার। এজন্য রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি সিমও সংগ্রহে রেখেছিলেন। যাতে নম্বরটি থেকে ফোন করে টাকা দাবি করতে পারেন। কিন্তু সিমটি সচল না থাকায় আর ফোন করতে পারেননি। অপহরণের পর আয়াত চিৎকার করতে চাইলে তাকে গলা টিপে হত্যা করেন। পরে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তাকে কেটে ছয় টুকরা করে কিছু অংশ সাগরে ভাসিয়ে দেন। আর কিছু অংশ পার্শ্ববর্তী আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন স্লুইচ গেটের পাশে ফেলে দেন।
এরপরই আবিরকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আয়াতের লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পিবিআই। উদ্ধার করা হয় হত্যায় ব্যবহৃত বঁটি, অ্যান্টি-কাটার ও আয়াতের জুতা।
ঐ সময় পিবিআই জানায়, প্রায় ২১ বছর ধরে আয়াতদের বাড়িতে ভাড়ায় ছিল আবিরের পরিবার। আবিরের জন্মও বাড়িটিতে। তবে বাবা-মার ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ায় আয়াত হত্যার কয়েকদিন আগে পকেট গেট এলাকায় আলাদা একটি বাসা ভাড়ায় নেন আবিরের মা। আয়াতদের নিচতলার বাসাটিতেই তাকে শ্বাসরোধে খুন করেন আবির। পরে লাশ নিয়ে যান মায়ের বাসায়। সেখানেই লাশটিকে ছয় টুকরো করেন।
আয়াত হত্যার ঘটনায় ইপিজেড থানায় করা মামলাটি তদন্ত করেছে পিবিআই। হত্যাকাণ্ডের পর আবীরের বাবা, মা ও ছোট বোনকে গ্রেফতার করে র্যাব। আর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জেনেও গোপন রাখার অভিযোগে অপর এক কিশোরকে গ্রেফতার করে পিবিআই।