ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

করতোয়া নদী দখল করায় টিএমএসএসকে জরিমানা

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৩৩, ২০ মার্চ ২০২৩
করতোয়া নদী দখল করায় টিএমএসএসকে জরিমানা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বগুড়ায় করতোয়া নদী ভরাট করে দখলের অভিযোগে বেসরকারি সংস্থা ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘকে (টিএমএসএস) ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে জরিমানা অনাদায়ে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র সহকারী পরিচালক নজিবুর রহমানকে তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। স্থাপনা নির্মাণের উদ্দেশে মাটি ফেলে নদী ভরাট করার দায়ে টিএমএসএসকে এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুর এ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও বগুড়া সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজা পারভীন। 

এর আগে, গতকাল রোববার সকালে নদী দখলের অভিযোগে সদর উপজেলা নওদাপাড়া এলাকায় টিএমএসএসের ইকোপার্কে অভিযান চালান ইউএনও। পরে তিনি টিএমএসএস প্রতিষ্ঠানকে আট লাখ টাকা জরিমানা করেন। অবশ্য এ জরিমানার বিষয়টি অস্বীকার করেন ইউএনও। জায়গাটিকে নিজেদের দাবি করে টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা বেগম কাগজপত্র দাখিল করলে দণ্ডাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। 

Advertisement

গতকাল মুঠোফোনে ইউএনও বলেন, নদী দখলরোধে সেখানে অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে জরিমানা করা হয়নি। কারণ টিএমএসএস জায়গাটি নিজেদের দাবি করে। এ সময় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, উভয়পক্ষের সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপ করে দেখা হবে। ততোক্ষণ পর্যন্ত ওই জায়গায় টিএমএসএসের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়। 

ওইদিন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক হোসেনে আরা বেগম দাবি করেন, যেখানে মাটি ভরাট করা হচ্ছে সেটা তার ব্যক্তিগত জমি। বালু ব্যবসায়ীরা বালু তোলায় জমিটি নিচু হয়েছে। এই জমি চাষের আওতায় আনার জন্য তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক সেই আবেদন পরিবেশ অধিদফতরে পাঠালে নিজস্ব জমিতে কাজ করার অনুমতি প্রদান করা হয়।

তবে এ সময় হোসেনে আরা বেগমের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেয়া হয়।

মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়, টিএমএসএস যদি নদীর জায়গা ভরাট করে বা নদীর সীমানা অতিক্রম করে- তাহলে সাজা মেনে নেয়া হবে। তবে এর আগে, দুই-পক্ষের সার্ভেয়ার দিয়ে জরিপ করা হবে। এতে অপরাধ প্রমাণ হলে সাজা মেনে নিতে কোনো আপত্তি নেই।

মুচলেকা দেওয়ার পরেও সোমবার সকালে জমি পরিমাপ করার আগেই ফের নদী ভরাট শুরু করে টিএমএসএস। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন ইউএনও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও ফিরোজা পারভীনের সঙ্গে সোমবার মুঠোফোনে কথা হলে তিনি প্রথমে জরিমানার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে আরেক প্রশ্নের জবাবে ডেইলি বাংলাদেশকে ইউএনও বলেন, ‘নদী ভরাট করায় টিএমএসএসকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে একজনকে ৩ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও জরিমানার টাকা আদায় করা হয়নি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালে করতোয়া নদীর দখলদারদের একটা তালিকা তৈরি করে বগুড়া জেলা প্রশাসন। সেখানে টিএমএসএস প্রতিষ্ঠানটির নাম উঠে আসে।

অভিযোগ পাওয়া যায়, বগুড়া সদর উপজেলার মহিষবাথান মৌজায় করতোয়া নদীর ৪ দশমিক ৯০ একর জমিতে আধপাকা অবকাঠামো নির্মাণ করে দখলে রেখেছে টিএমএসএস। 

কিন্তু গত কয়েক বছর জেলা প্রশাসন দখলদারদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযান পরিচালনা করলেও টিএমএসএসের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি।

অপরদিকে টিএমএসএসের দাবি, নদীর এই ৪ দশমিক ৯০ একর জমি তারা সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়েছে।

তবে নদী বা প্রাকৃতিক জলাধার লিজ নেয়ার কোনো বিধান নাই বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!