শুক্রবার সকালে মূল আসামি মো. তরিকুল ইসলামকে পিরোজপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তরিকুল ইসলাম নাজিরপুর উপজেলার দক্ষিণ চিথলিয়া গ্রামের মিজান খানের ছেলে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ইন্সপেক্টর মো. বায়েজীদ আকন জানান, তদন্তভার প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানাধীন জাফরাবাদ এলাকা থেকে ভুক্তভোগী লামিয়া আক্তারের স্বামী তরিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
.png)
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তরিকুল ইসলাম নিজের দোষ স্বীকার করে পুলিশকে জানান, ২০২২ সালের মে মাসের শেষের দিকে ঈদের ছুটি শেষে লামিয়া আসামির বাড়িতে এসে ওঠেন। ফেসবুকে ‘তানিশা তানজিম’ নামে একটি আইডি থেকে লামিয়ার দুইটি নগ্নছবি ছড়িয়ে পড়ার কারণে লামিয়া আসামিকে দায়ী করায় এবং স্থানীয় লোকজনের চাপে ঐদিন সন্ধ্যায় তরিকুল লামিয়াকে বিয়ে করেন। বিয়েতে আসামি তরিকুলের বাবা-মার অসম্মতি ছিল। তাদের বিয়ে মেনে না নেয়ায় লামিয়া তার বাবার বাড়িতেই থাকতেন।
সেখানে আসামির যাতায়াত ছিল। বিয়ের সাত মাস পর লামিয়াকে তার বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়িতে তুলে নিতে না চাইলে লামিয়া ও আসামির মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের ৬ তারিখ রাতে তরিকুল লামিয়ার সঙ্গে গোপনে দেখা করেন। লামিয়ার মা ও নানি ঘুমালে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে তরিকুলের সঙ্গে দেখা করেন। তারা কথা বলার একপর্যায়ে ভুক্তভোগী বলেন, ছাড়াছাড়ি হলে তরিকুলের বিরুদ্ধে মামলা করে দেবেন। এতে তরিকুল রেগে লামিয়ার গলা টিপে হত্যা করেন। এরপর লাশ খালে ফেলে টেনে বালুর মাঠে নিয়ে যান। মাঠের পাশের এক বাড়ির গোয়াল ঘর থেকে একটি বেলচা নিয়ে সেখানে খুঁড়ে লাশ বালুচাপা দিয়ে রাখেন।
ঘটনার প্রায় চার মাস পর গত ১১ মার্চ আসামি মানসিক পীড়ায় অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগীর লাশ তার পরিবারের দৃষ্টি গোচরে আনার জন্য নাজিরপুর বাজারের একটি দোকান থেকে দুইটি গ্লাভস কেনেন। এরপর ঐ রাতে পুনরায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বেলচা দিয়ে খোঁড়ার পর লাশের হাত দেখতে পেয়ে ওঠানোর চেষ্টা করেন। এতে লাশের হাত দেহ থেকে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে হাতটা গর্তে রেখে পুনরায় লাশ বালু চাপা দিয়ে আসেন। পরদিন রাতে তরিকুল একটি চিরকুট লিখে লামিয়ার ঘরের চালে ঢিল মারেন। তখন ঘর থেকে লামিয়ার খালা ও নানি বাইরে বের হয়ে চিরকুট দেখতে পান।
উল্লেখ্য, নিখোঁজের চার মাস পর ১২ মার্চ রাতের লামিয়া আক্তারের পরিবার একটি চিরকুট পেয়ে থানা পুলিশকে অবহিত করে। পরের দিন চিরকুটের তথ্যের ভিত্তিতে সাত কাছিমা গ্রামের বালুর মাঠ থেকে লামিয়া আক্তারের কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানা পুলিশের পাশাপাশি ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারে ছায়াতদন্ত করে পিবিআই পিরোজপুর টিম।