গ্রেফতারকৃত নাজিম উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের দক্ষিণ ফুলবাগিচা এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে এবং আনোয়ার ঐ এলাকার দুলাল হোসেনের ছেলে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার বাকপ্রতিবন্ধী গৃহবধূ স্বপ্না উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের দেওয়ানকান্দি এলাকার আলমগিরের মেয়ে।
.png)
লালমোহন থানার ওসি মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, গত রোববার (৫ মার্চ) রাতে উপজেলার দেওয়ানকান্দি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন বাকপ্রতিবন্ধী স্বপ্না বেগম। নিখোঁজের দুইদিন পর গত মঙ্গলবার (৭ মার্চ) দুপুরে প্রতিবেশী মিঝি বাড়ির বাগানের ডোবার মধ্য থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত স্বপ্নার ভাই রিয়াজ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে লালমোহন থানায় মামলা করেন।
লালমোহন থানার এসআই সাইদুর রহমান ঐ মামলার তদন্ত করেন। এরপর ঐ দিনই স্বপ্না হত্যার ক্লু বের করে হত্যাকারী নাজিম ও আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্নাকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেন তারা।
এসআই সাইদুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় গৃহবধূ স্বপ্নাকে ধর্ষণের আলামত পেয়ে আমাদের সন্দেহ হয়। এরপর তদন্ত শুরু করি। ঘটনার পরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন আনোয়ার। ৭ মার্চ রাত ১২টার দিকে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট দিয়ে পালানোর সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে একই দিন সন্ধ্যার দিকে নাজিমকে গ্রেফতার করা হয়।
আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ার ও নাজিম জানিয়েছে, গত ৫ মার্চ সন্ধ্যার পর বাড়ির কাছের একটি দোকানে প্রয়োজনীয় মালামাল কেনা শেষে ঘরে ফিরছিলেন বাকপ্রতিবন্ধী গৃহবধূ স্বপ্না বেগম। এ সময় স্বপ্নার পিছু নেন তারা। বাড়ির কাছাকাছি যাওয়ার এক পর্যায়ে বাগানের মধ্যে নিয়ে পালাক্রমে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বাড়ি ফিরে স্বপ্না যেনো কাউকে ঘটনাটি বলতে না পারেন এ জন্য তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন আনোয়ার ও নাজিম। পরে স্বপ্নার গায়ের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করে বাগানের ডোবার মধ্যে ফেলে পালিয়ে যান তারা।