ঘুম থেকে উঠে ছেলে দেখলো পুকুরে ভাসছে মায়ের লাশ
মৌলভীবাজারের রাজনগরে পুকুর থেকে মিনা বেগম নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ লাশের সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধা ছিল একটি ড্রাম। অপর পা একটি কলসির মধ্যে ঢুকানো ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (৩১ আগস্ট) রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মৌলভীচক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী ও শাশুড়িকে রাজনগর থানায় নেয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জিয়াউর রহমান (সদর ও রাজনগর সার্কেল) জানান, কামারচাক ইউনিয়নের মৌলভীচক গ্রামের কলিমুল্লাহর ছেলে লেচু মিয়ার সঙ্গে তার স্ত্রী মিনা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এ নিয়ে মিনা বেগম স্বামীর বাড়ি থেকে তার বাবার বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামে চলে যান। সেখানে বেশ কিছুদিন ছিলেন।
তিনি আরো জানান, বিষয়টি স্থানীয় মুরব্বি ও ইউপি সদস্য মাহবুবুর রহমান মিলে কিছুদিন আগে মীমাংসা করে দেন। এতে মিনা বেগম স্বামীর বাড়িতে চলে যান। বুধবার সকালের দিকে মিনা বেগমের ছেলে হুমায়ূন ঘুম থেকে উঠে মা কে না পেয়ে পুরো বাড়িতে খোঁজ নেয়। কোথাও না পেয়ে পুকুর পাড়ে গিয়ে দেখে পানিতে মায়ের লাশ ভাসছে। তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন জড়ো হন। বিষয়টি রাজনগর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।
জানা যায়, লাশের এক পা একটি কলসির মধ্যে ঢুকানো ছিল। গলা ও কোমরের সঙ্গে রশি বাধা। এতে একটি ড্রামও অপর পায়ে বাধা ছিল। প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যা হিসেবেই দেখছে পুলিশ। এদিকে রাজনগর থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিনা বেগমের স্বামী লেচু মিয়া ও শাশুড়িকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।
রাজনগর থানার ওসি (তদন্ত) রতন দেবনাথ জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পূর্বে বিরোধ ছিল। বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গিয়েছিল। লাশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে।