ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

মাগুরায় তোষা পাট-৮ চাষে আগ্রহ বাড়ছে

মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:২৭, ১ সেপ্টেম্বর ২০২২
মাগুরায় তোষা পাট-৮ চাষে আগ্রহ বাড়ছে
মাগুরায় তোষা পাট-৮ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিজেআরআই তোষাপাট-৮ (রবি-১) দেখতে লাল বর্ণের, গাছ লম্বা, সাধারণ পাটের চেয়ে আঁশ মোটা ও ফলন ভালো। এবার দামও ভালো পাচ্ছেন চাষিরা। বীজ বপন ও ক্ষেত থেকে কাটাসহ এ পাটের জীবনকাল মাত্র ১১৫-১২০ দিন। এসব কারণে মাগুরায় এই পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন চাষিরা। এ বছর জেলার চার উপজেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে এ পাটের আবাদ হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩ বছর বিজেআরআই তোষা পাট-৮(রবি-১) এর চাষ শুরু করেছেন চাষিরা। এ পাট গাছ সাধারণ পাট গাছ থেকে কিছুটা লম্বা হয়। মাগুরা জেলায় এ বছর ২৫০ হেক্টর জমিতে বিজেআরআই তোষা পাট-৮(রবি-১) চাষ হয়েছে। আগামীতে এ চাষ আরো বাড়বে। এছাড়া এ পাট চাষ জনপ্রিয় করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। এ জাতের পাট বীজ বপনের উপযুক্ত সময় হচ্ছে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। এটি অপেক্ষাকৃত উচু, জলাবদ্ধতাহীন দো-আঁশ এবং বেলে দো-আঁশ মাটিতে চাষের উপযোগী। স্বাভাবিক গড় উচ্চতা প্রচলিত জাত অপেক্ষা ৩০-৩৫ সেন্টিমিটার বেশি। 

মাগুরা সদর উপজেলা আঠাখাদা গ্রামের কৃষক টিটুল বিশ্বাস বলেন, এ বছর ৩৩ শতক জমিতে এ জাতের পাট চাষ করেছি। আমি মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ৭৫০ গ্রাম পাট বীজ সংগ্রহ করি। 

তিনি আরো বলেন, আমরা সাধারণ জাতের যে পাট চাষ করি তার তুলনায় এ পাটে কিছুটা লম্বা  ও আঁশ মোটা হয়। পাটের রঙও বেশভালো হয়। সব মিলিয়ে এ পাট চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। ৩৩ শতাংশ জমি থেকে প্রায় সাড়ে ৬ মণ পাট ঘরে তুলতে পারবো।

মাগুরা সদর উপজেলার আঠারখাদা ইউপির উপ-সহকারি  কৃষি কর্মকর্তা লব কুমার রায় জানান, অন্য জাতের তুলনায় এ জাতটি কৃষকদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পর্যাপ্ত বীজ পেলে আগামীতে আরো অনেক বেশি আবাদ হবে। 

মাগুরায় তোষা পাট-৮ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, আমি ৫০ শতক জমিতে এ পাটের চাষ করেছি। ৫০ শতক জমি থেকে প্রায় ১৬মণ পাট ঘরে তুলতে পারবো। স্থানীয় কৃষক বকুল জোয়ার্দারের কাছ থেকে এ পাটের ১ কেজি ৬০০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করেছি । 

বিনোদপুর ইউপির উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মৃনাল কান্তি দাস জানান, এ ইউপিতে ৮৫ হেক্টর বিজেআরআই তোষা পাট-৮ (রবি-১) জাতের পাট চাষ হয়েছে। এ পাটের ফলন ভালো হয়েছে। পাট কেটে পানিতে দেয়ার পর সল্প সময়ে জাগ আসে। ফলে কৃষকরা সহজেই আঁশ সংগ্রহ করে শুকিয়ে তা ঘরে তুলতে পারে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুফি রফিকুজ্জামান জানান, চলতি বছর জেলায় ৩৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ হেক্টর বিজেআরআই তোষা পাট-৮ (রবি-১) চাষ হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে এ জাতের পাট চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। এই পাটের বৈশিষ্ট হচ্ছে আগাম চাষ করা যায়,রোগবালাই কম হয়।

তিনি আরো বলেন, ১১৫-১২০ দিনের মধ্যে জমি থেকে পাট কাটতে পারলে ১৫-২০ শতাংশ বেশি ফলন পাওয়া যায়। এই জাতের পাটের বীজ বেশি করে কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করলে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভোবান হবেন। আমরা মনে করি আগামীতে  বিজেআরআই তোষা পাট-৮ (রবি-১) জাতের বীজের সহজ লভ্যতার পাশাপাশি এ জাতের পাটের চাষ আরো বাড়বে। এ মৌসুমে জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৫ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে। চাষ হয়েছে ৩৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ হাজার ৬৫ হেক্টর বেশি। চাষকৃত জমি থেকে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার ৯১২ বেল পাট উৎপাদিত হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!