পাট চাষিদের মুখে তৃপ্তির হাসি
জামালপুর পাটের দাম বেশি থাকায় কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠেছে। আবহাওয়া অনুকূল ও বন্যা না হওয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে পানি সঙ্কটে এখনো পাট পচাতে পারছেন না অনেক কৃষক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নিতাই চন্দ্র বণিক জানান. পাটের বাম্পার ফলন হওয়ায় এবার চাষিরা বেশ লাভবান হবে। আর এই পাট বিক্রি করে রোপা আমন এর জন্য বাড়তি দু‘পয়সা ঘরে তুলতে পারবে পাট চাষিরা । সবমিলিয়ে পাটের ন্যায্য দাম পাবে চাষিরা এমনটি প্রত্যাশা সকলের।
তিনি আরো বলেন, অনুকুল পরিবেশ আর বীজের সহজ লভ্যতার কারণে এবার জামালপুরে ৩০ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে দেশি, তোশা, কেনাফ ও মেস্তা জাতের পাটের চাষ হয়েছে।

জানা যায়, পাট চাষ করে তিন মাসের মধ্য পাট ঘরে তোলা যায়। কম সময়ে, কম পরিশ্রমের ফসল পাট। প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ১০-১২ মণ পাট উৎপাদন হয়। এবার বাজারে পাটের মান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। এবার বন্যা না হওয়ায় পাট চাষিদের পাটের কোনো ক্ষতি হয়নি। পাটের ভালো ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি পাট চাষিরা।
পাট চাষি আবুল কাশেম জানান, সোয়া ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। ওই জমিতে ১৮ মণ পাট হয়েছে। প্রতি মণ ২ হাজার ৯০০ টাকা দরে বিক্রি করছে। এতে তার খরচ বাদে ৩৭ হাজার ২০০ টাকা লাভ হয়েছে। পাট বিক্রি করে খুব খুশি তিনি।

রাজীবপুরের পাট ব্যবসায়ী জানান, পাটের বাজার বেশি হওয়ায় কৃষক লাভবান। তবে ব্যবসায়ীদের পাট মিল কারখানায় বিক্রি করতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক পাটের মিল বন্ধ রয়েছে। মিল কারখানা খুললে সমস্যা কেটে যাবে। এ অঞ্চলের পাট ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশে বিভিন্ন মিল কারখানায় বিক্রি হয়ে থাকে।
ঝালুরচর বাজারের সাব ইজারাদার মো. উজ্জল মিয়া জানান, পাটের হাটে ক্রেতা বিক্রেতা ভালই আসে। এ অঞ্চলের পাটের মান ভাল হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ পাট কিনতে আসে। প্রতি হাটে প্রায় ১ কোটি টাকার পাট কেনা-বেচা হয়ে থাকে। পাটের হাটে জায়গার সঙ্কটের কারণে পাট কেনা-বেচায় সাময়িক সমস্যা হচ্ছে।