ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]
ব্যয় ৪৯ কোটি টাকা

সাইবার নিরাপত্তায় প্রশিক্ষণ পাবে ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:২০, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সাইবার নিরাপত্তায় প্রশিক্ষণ পাবে ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি, সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার ও অনলাইন প্রতারণা থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আওতায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ৩৮ হাজার ১৮০ শিক্ষার্থীকে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রায় ৪৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া এ প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় প্রতিনিধিদেরও সম্পৃক্ত করা হবে।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের ‘দেশের শিশু-কিশোরসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি। চলতি বছর শুরু হয়ে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ৩৮ হাজার ১৮০ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি দুই হাজার ৪৭৫ শিক্ষককে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে ৫০৫টি সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজন করা হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে অনুষ্ঠিত হবে দুটি সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিযোগিতা।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৫০ কোটি টাকার কম হওয়ায় প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পরিকল্পনামন্ত্রী এতে অনুমোদন দিয়েছেন। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার কথা রয়েছে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মুখপাত্র হোসেন বিন আমিন বণিক বার্তাকে বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সাইবার অপরাধ ও অনলাইন হয়রানির ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রতিকার পাওয়ার উপায় সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে।

তিনি জানান, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি জেলার গ্রাম পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য সহায়ক প্রশিক্ষণ উপকরণও তৈরি করা হবে।

শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

সাম্প্রতিক কয়েকটি অপরাধের ঘটনা শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের অভিযোগপত্রে তার মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কিশোরী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাও শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনায় এনেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, সাইবার বুলিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধ থেকে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনলাইন বিরোধ বাস্তব জীবনেও সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ৩৮৬টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্যাংয়ের সদস্যসংখ্যা অন্তত চার হাজার ২৫০ জন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরেই রয়েছে ১৫৯টি গ্যাং, যেগুলোর সদস্য এক হাজার ৮১২ জন।

প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পরিবারের ভূমিকায় গুরুত্ব

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বণিক বার্তাকে বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারের কৌশল শেখালেই হবে না, সাইবার জগতের ঝুঁকি ও অপরাধ সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে।

শিক্ষার্থীরা অনলাইনে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছে কি না কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে কি না, সেদিকে নজর রাখার পরামর্শ দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবারের সক্রিয় ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিজিটাল ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর হাসান জোহা বলেন, দেশে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষ প্রশিক্ষক, হালনাগাদ পাঠ্যক্রম এবং গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে।

তিনি বলেন, অনলাইনে হয়রানি বা অপরাধের শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করতে হবে এবং ডিজিটাল প্রমাণ কীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, সে বিষয়গুলোও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সচেতন করার পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা গেলে অনলাইন ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!