ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ স্বাস্থ্যকথা ]

কেমোথেরাপির বিকল্প কি কিছু আছে?

ডাঃ মোঃ তৌছিফুর রহমান
প্রকাশিত: ০৯:২৫, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
কেমোথেরাপির বিকল্প কি কিছু আছে?
প্রচলিত কেমোথেরাপি সাধারণত দ্রুত বিভাজনশীল কোষকে লক্ষ্য করে। কিন্তু প্রিসিশন থেরাপি ক্যান্সারের নির্দিষ্ট Molecular Target শনাক্ত করে সেটিকে আক্রমণ করে

আসুন বিস্তারিত জানি
ক্যান্সার চিকিৎসায় প্রিসিশন থেরাপি: সঠিক রোগীর জন্য সঠিক চিকিৎসা
প্রিসিশন অনকোলজি বা প্রিসিশন থেরাপি হলো ক্যান্সার চিকিৎসার একটি আধুনিক পদ্ধতি। এতে শুধু ক্যান্সারের ধরন নয়, বরং রোগীর টিউমারের জেনেটিক মিউটেশন, মলিকুলার প্রোফাইল ও বায়োমার্কার বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।
এর মূল দর্শন— “Right treatment for the right patient at the right time.”
অর্থাৎ, সঠিক সময়ে সঠিক রোগীর জন্য সঠিক চিকিৎসা।

কেন গুরুত্বপূর্ণ?
প্রচলিত কেমোথেরাপি সাধারণত দ্রুত বিভাজনশীল কোষকে লক্ষ্য করে। কিন্তু প্রিসিশন থেরাপি ক্যান্সারের নির্দিষ্ট Molecular Target শনাক্ত করে সেটিকে আক্রমণ করে।
- উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসার কার্যকারিতা বাড়ায়
- অপ্রয়োজনীয় বা কম কার্যকর চিকিৎসা এড়াতে সাহায্য করে
- কিছু ক্যান্সারে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও বেঁচে থাকার সময় বাড়াতে পারে
- রোগীভেদে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা সম্ভব করে
তবে মনে রাখতে হবে—সব রোগীর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নয়। Targetable biomarker এবং কার্যকর ওষুধের প্রাপ্যতা থাকা জরুরি।

 প্রিসিশন থেরাপির প্রধান ধরন
- Targeted Therapy: নির্দিষ্ট মলিকুলার টার্গেটকে বাধা দেয়
- Immunotherapy: রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সক্রিয় করে
- Hormonal Therapy: হরমোননির্ভর ক্যান্সারের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে
- Antibody–Drug Conjugate (ADC): অ্যান্টিবডির মাধ্যমে ক্যান্সার কোষে ওষুধ পৌঁছে দেয়
- PARP Inhibitor: DNA repair pathway-কে বাধা দেয়
Targeted therapy শুরুর আগে প্রায়ই টিউমার পরীক্ষা করে দেখতে হয় যে সেখানে ওষুধের উপযুক্ত টার্গেট আছে কি না।

কোন ক্যান্সারে গুরুত্বপূর্ণ?
ফুসফুসের ক্যান্সার (NSCLC): EGFR, ALK, ROS1, KRAS G12C
- স্তন ক্যান্সার: ER, PR, HER2, PIK3CA, BRCA1/2
- কোলোরেক্টাল ক্যান্সার: RAS, BRAF, MSI-H/dMMR
- ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার: BRCA1/2 বা HRD status
- প্রোস্টেট ক্যান্সার: BRCA1/2 ও অন্যান্য HRR gene alteration
সঠিক বায়োমার্কার শনাক্ত হলে তা অনুযায়ী Targeted therapy বা Immunotherapy নির্বাচন করা যেতে পারে।

কী কী পরীক্ষা লাগে?
- Tissue biopsy ও Histopathology
- Immunohistochemistry (IHC)
- PCR, FISH ও Next-Generation Sequencing (NGS)
- Liquid biopsy বা ctDNA
- প্রয়োজনে Germline genetic testing
Biomarker testing-এ জিন, প্রোটিন বা অন্যান্য পদার্থ পরীক্ষা করা হয়, যা চিকিৎসককে রোগীর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা নির্বাচনে সাহায্য করে।

 সীমাবদ্ধতাও আছে
প্রিসিশন থেরাপি যত আশাব্যঞ্জকই হোক, কিছু বাস্তবতা মানতে হবে—
- সব ক্যান্সারে Targetable mutation পাওয়া যায় না
- ওষুধের দাম ও প্রাপ্যতা বড় চ্যালেঞ্জ
- Targeted therapy-তেও Resistance তৈরি হতে পারে
- মিউটেশন থাকলেই সব সময় কার্যকর ওষুধ পাওয়া যায় না
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সহ-রোগ বিবেচনা করতে হয়
Biomarker testing কার্যকর প্রিসিশন অনকোলজির জন্য অপরিহার্য, তবে কার্যকর চিকিৎসার প্রাপ্যতা না থাকলে ফলাফল সীমিত হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে করণীয়
- চিকিৎসা শুরুর আগে সঠিক Histopathology ও IHC নিশ্চিত করা
- ফুসফুসের ক্যান্সারে Molecular profiling-এর সুযোগ বাড়ানো
- স্তন ক্যান্সারে ER, PR ও HER2 পরীক্ষা নিশ্চিত করা
- কোলোরেক্টাল ক্যান্সারে MMR/MSI ও RAS/BRAF পরীক্ষা করা
- উপযুক্ত রোগীর Genetic counseling-এর ব্যবস্থা করা
- জটিল রোগীর জন্য Molecular Tumor Board গড়ে তোলা
- প্রিসিশন থেরাপি ক্যান্সার চিকিৎসাকে অনুমাননির্ভর থেকে প্রমাণ ও বায়োমার্কারনির্ভর করে তুলছে। সঠিক পরীক্ষা ও সঠিক সিদ্ধান্তই পারে রোগীর চিকিৎসার ফলাফল বদলে দিতে।

লেখক : ডাঃ মোঃ তৌছিফুর রহমান
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ), এমডি (অনকোলজি), মেডিকেল ও রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট
টিএমএসএস ক্যান্সার সেন্টার, বগুড়া

চেম্বার ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট
চেম্বার–১ | ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন সেন্টার
কানছগাড়ী, শেরপুর রোড, বগুড়া,  সিরিয়াল: ০১৭০১৫৬০০১২

চেম্বার–২ | সনো কনসালটেশন সেন্টার (সনো টাওয়ার–২)
কলেজ মোড়, কোর্টপাড়া, কুষ্টিয়া, সিরিয়াল: ০১৭৭০৯৯৭৩৫২
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!