নরসিংদীতে কমছে পাট চাষ
বাজারে পাটের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ায়সহ বিভিন্ন কারণে দিনে দিনে নরসিংদীতে কমছে পাটের চাষ। গত বছর লোকসানের অজুহাতে বন্ধ হয়ে যায় কয়েকটি পাটকল। এরমধ্যে নরসিংদীর বৃহত্তম ইউএমসি ও বাংলাদেশ জুটমিলও রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাটকল বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের পাটক্রয়ে অনাগ্রহে বাজারে পাটের চাহিদা কমে যাওয়ায় পাট চাষিরা পাটের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ন্যায্য মূল্য না পেয়ে পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এ অঞ্চলের পাটচাষিরা।
নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্র জানায়, এ বছর নরসিংদী জেলার ছয়টি উপজেলায় ২ হাজার ৬ শত ৭৩ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। তারমধ্যে নরসিংদী সদর উপজেলায় দেশি ১০০ হেক্টর, তোষা ১০০ হেক্টর, কেনাফ ১০০হেক্টর ও মেস্তা ৩০ হেক্টর।
পলাশ উপজেলায় দেশি ২০ হেক্টর, তোষা ৩০ হেক্টর ও কেনাফ ৫০ হেক্টর। শিবপুরে দেশি ৫ হেক্টর, তোষা ১১০ হেক্টর ও কেনাফ ১৪০ হেক্টর। মনোহরদী উপজেলায় দেশি ৮০ হেক্টর, তোষা ৩৩০ হেক্টর ও কেনাফ ৩৫০ হেক্টর। বেলাব উপজেলায় ৭০ হেক্টর, তোষা ৩০০ হেক্টর, কেনাফ ৩৮ হেক্টর। রায়পুরা উপজেলায় দেশি ৯০ হেক্টর, তোষা ৩৯০ হেক্টর, কেনাফ ৩৪০ হেক্টর।
নরসিংদী জেলায় এবার দেশি পাটের আবাদ হয়েছে সর্বমোট ৩৬৫ হেক্টর, তোষা ১ হাজার ২৬০ হেক্টর, কেনাফ ১ হাজার ১৮ হেক্টর এবং মেস্তা ৩০ হেক্টর জমিতে।
গত বছরের চেয়ে তুলনামূলক কম হওয়ার বিষয়ে নরসিংদী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহুয়া শারমিন মুনমুন জানান, খাল-বিল, পুকুর ও মুক্ত জলাশয়ে মাছ চাষের ফলে পাট জাগ দেয়ার পরিকল্পিত জলাশয় তা কমে গেছে। সরকারিভাবে কিছু পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাটের চাহিদা কমে এসেছে। এছাড়া অন্যতম কারণ হিসেবে পাট চাষের তুলনায় অন্যান্য ফসল চাষে কৃষকরা বেশি লাভবান হওয়ায় কৃষকরা পাটচাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এরপরও সরকারিভাবে বীজ, সারও অন্যান্য সুবিধা দিয়ে কৃষকদের পাটচাষের জন্য উদ্ধুদ্ধ করার কাজটি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে।
পলাশ উপজেলা উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের জয়পুরা গ্রামের কৃষক নাজিম উদ্দিন জানান, আগে মাঠের পর মাঠ এই এলাকার কৃষকরা পাটচাষ করতেন। কিন্তু আজ বাজারে পাটের উপযুক্ত মূল্য না পেয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। একই এলাকার আরমান নামে আরেকজন কৃষক জানান, পাটচাষ করে যে অর্থ পাওয়া যায় তা দিয়ে জমির শ্রমিকের পয়সাই উঠেনা। তাই পাটচাষ এখন আর আগের মতো নেই।
তবে অনেকেই পাটখড়ির জন্য পাট চাষ করে থাকেন। এরফলে অনেকেই এ ফসল ছেড়ে দিয়ে লাভজনক ফসলের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। ফলে বাংলার ঐতিহ্য ও রফতানিযোগ্য অর্থকরী ফসল সোনালি আঁশ পাটের উৎপাদনমাত্রা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে নরসিংদী জেলায়।
পাটশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে প্যাকেজিং, শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ, বাজার-ব্যাগ, গৃহস্থালি ও সৌখিন কাজে পাটের তৈরি পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে পাট চাষি, পাট শিল্প তথা দেশের পাটকলগুলোকে জাগিয়ে তুলে বাজারে পাটের চাহিদা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি সরকারের মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারলেই পাটচাষিরা আবার পাটচাষে আগ্রহী হবেন বলে মনে করেন পাট ব্যবসায়ীরা।