ছেলের দেওয়া চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে মায়ের আত্মহত্যা
মানিকগঞ্জের ঘিওরে ছেলের দেওয়া চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে রাহেলা খাতুন নামে এক মা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউপির করজনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ রাহেলা খাতুনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, করজনা গ্রামের মো. অহেদ আলী খানের স্ত্রী রাহেলা খাতুন। তার ৪ ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়েছে একই গ্রামে। বুধবার রাতে রাহেলা খাতুন মেজ ছেলে বাবু খানের বাড়িতে খাবার খেয়ে মেয়ের বাড়িতে ঘুমাতে যান। কিছুক্ষণ পর ছেলে বাবু খান তার মায়ের কাছে এসে বলে তুমি আমার এক হাজার টাকা চুরি করেছ। এ নিয়ে মা ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশে একটি গাছে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ধারণা ছেলের দেওয়া চুরির অপবাদ সহ্য না পেরে রাতের কোনো এক সময় গলায় রশি নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মা রাহেলা খাতুন।
মৃত রাহেলার নাতি আরিফুল ইসলাম জানান, আমার মেজ কাকা দাদিকে এক হাজার টাকা চুরির অপবাদ দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ কারণেই আমার দাদি আত্মহত্যা করেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাবু খান বলেন, আমি শুধু মাকে বলেছি এক হাজার টাকা এনেছ কেন। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে আমার সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। এর বেশি কিছু আমি বলিনি। তারপর আমি আর জানি না। সকালে খবর পাই মা আত্মহত্যা করেছে।
ঘিওর থানার ওসি মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মায়ের সঙ্গে ছেলের টাকা পয়সা নিয়ে কথা কাটাকাটি হওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।