ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচ যাচ্ছে জাপানে

ইমন চৌধুরী, পিরোজপুর
প্রকাশিত: ১৫:০৪, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১
পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচ যাচ্ছে জাপানে
স্বাদে আর গন্ধে অতুলনীয় এই মরিচের একমাত্র আমদানিকারক দেশ জাপান।

জাপানে রফতানি করা করা হচ্ছে পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচ। ২০১১ সাল থেকে দেশটিতে রফতানি করা হচ্ছে এই মরিচ। স্বাদে আর গন্ধে অতুলনীয় এই মরিচের একমাত্র আমদানিকারক দেশ জাপান। তাই প্রতিবছর দেশটিতে মরিচ রফতানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে বাংলাদেশ। আগামী বছর আমদানিকারক দেশের তালিকায় যুক্ত হবে মালয়েশিয়াও।      

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার কুড়িয়ানায় বাড়ির আঙিনায় চাষ হতো বোম্বাই মরিচ। দেশে-বিদেশে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন স্বরূপকাঠির মাহামুকাঠি, সংগীতকাঠি, আদাবাড়ী, জিন্দাকাঠি, হরিহরকাঠিসহ ১০ গ্রাম এবং জলাবাড়ী ইউপির কামারকাঠি, ইদিলকাঠি এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে চাষ শুরু হয়েছে।

 স্বরূপকাঠি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চাষ শুরু হয়েছে।    

Advertisement

বোম্বাই মরিচের গুণ ও মান ভালো হওয়ায় প্রতিবছর জাপানি ব্যবসায়ী তাকিউসি বাগান থেকে মরিচ চাহিদা মতো কিনে নেন। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘বাংলা অ্যাগ্রো’ কৃষকদের কাছ থেকে মরিচ সংগ্রহ করে। পরে তাদের ফ্যাক্টারিতে মরিচ শুকিয়ে মেশিনের মাধ্যমে গুঁড়া করে প্যাকেটজাত করে জাপানে পাঠিয়ে দেয়। এরইফলে স্বরূপকাঠির চার ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে দেশে-বিদেশে মরিচ বিক্রি করে শতকোটি টাকা আয় করছে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

বাণিজ্যিকভাবে মরিচ বিক্রি করে শতকোটি টাকা আয় করছে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

মরিচ চাষি সজল কুমার ও তার স্ত্রী গিতা রানী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমরা যতটুকু জানি ১৯৮০ সালে থেকে এ অঞ্চলে বোম্বাই মরিচ চাষ হয়। স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে চাষিরা বোম্বাই মরিচের চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরেই তাদের প্রচুর টাকা লাভ হয়। এরপর স্বরুপকাঠিতে দ্রুত বাড়তে থাকে বোম্বাই মরিচের চাষ। এক পর্যায়ে নার্সারি মালিকরা তাদের মেহগনি চারার মধ্যে বোম্বাই মরিচ চাষ শুরু করেন। বর্তমানে কয়েক হাজার কৃষক এ ফসলের উৎপাদন করে আসছে। সুধু বিদেশেই নয় ঢাকার কারওয়ান বাজারের বেশির ভাগ বোম্বাই মরিচ স্বরূপকাঠি থেকে সরবরাহ করা হয়। এখান থেকে প্রতিদিন ৮/১০ টি মিনি ট্রাক মরিচ নিয়ে ঢাকায় যায়। এছাড়াও স্বরূপকাঠি ও বরিশাল থেকে ঢাকাগামী লঞ্চে মরিচ ঢাকায় পাঠানো হয়। 

বর্তমানে কয়েক হাজার কৃষক এ ফসলের উৎপাদন করে আসছে

আরেক চাষি সোহেল জমাদ্দার বলেন, আমাদের উৎপাদিত মরিচ দেশের বাইরে গেলেও ন্যায্য দাম পাই না। মরিচের ব্যবসা কয়েক হাত হয়ে মূল্য নির্ধারণ হয়। যার কারণে আমরা কমে বিক্রি করলেও ঢাকায় গিয়ে মরিচের দাম ডাবল হয়।

এদিকে মরিচ চাষিদের কৃষি লোনসহ সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানান নেছারাবাদ উপজেলার কৃষি অফিসার চপল কৃষ্ণ নাথ। তিনি বলেন, এ বছর স্বরুপকাঠি উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমিতে বোম্বাই মরিচের আবাদ হয়েছে। এই বোম্বাই মরিচের ফলন হেক্টর প্রতি ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!