নারায়ণগঞ্জে চুরির অপবাদ দিয়ে যুবককে নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির অপবাদ দিয়ে যুবককে আটক করে নির্যাতনের পর মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে ৯৯৯ এ ফোন করে সহায়তা চাইলে পুলিশ নাসিক ২৫ নম্বর ওয়ার্ড দেউলী চৌরা পাড়া এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।নির্যাতনের শিকার মো. মেরাজ বন্দর দেউলী এলাকার ইয়াছিন মোল্লার ছেলে।
মো, মেরাজ জানান, দরিদ্রতার কারণে আগে থেকেই অটোরিকশা চালাতেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে দেউলী চৌরাপাড়া এলাকার মো. জাবেদ, মুন্না, শহীদসহ কয়েকজন তাকে ডেকে নিয়ে যায়। অটোরিকশা চুরির বিষয় কিছুই জানেন না বলা মাত্রই কয়েকজন মিলে তাকে বেদম মারপিট করে। একপর্যায়ে তার মা রীপা বেগমকে ফোন করে টাকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে চাপ দেয়। অটোরিকশার মূল্য বাবদ দেড় লাখ টাকা না পেলে তাকে ছাড়বে না বলে তার মাকে জানায় তারা। নিরুপায় হয়ে তার মা ৯৯৯ এ ফোন করেন এবং বিষয়টি জানান।
.png)
পরবর্তীতে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই কামরুজ্জামান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রায় ৭ ঘণ্টা পর আহত অবস্থায় মেরাজকে উদ্ধার করে, পরে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত বেলায়েতের ছেলে জাবেদ এবং মহিউদ্দিনের ছেলে মুন্নাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
পরে রাতভর দেন-দরবার শেষে শুক্রবার দুপুরে ২ লাখ টাকায় থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয় আটককৃত ওই দুইজনকে।
আহত মেরাজের মা রীপা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা গরিব এবং অসহায়। তাই বিচার পেলাম না। একমাত্র ছেলেকে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনা বাদ দিয়ে উল্টো আমাদের মাথায় চাপিয়ে দেয়া হয়েছে ক্ষতিপূরণের ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
বন্দর থানার ওসি (তদন্ত) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে এএসআই কামরুজ্জামান ফোর্সসহ চৌরাপাড়া এলাকা থেকে মেরাজকে উদ্ধার এবং জড়িত দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়ে নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করার শর্তে আটক দুইজনকে জিম্মায় নিয়ে যান।