মূর্তির বিশেষ অঙ্গ ঘষলেই ঘুরবে ভাগ্যের চাকা!
আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের কথা জানেন তো সবাই। রূপকথার সেই গল্পের নায়ক আলাদিন কুড়িয়ে পাওয়া একটি প্রদীপে ঘষা দিলেই বেরিয়ে আসতো এক দৈত্য। যে কিনা আলাদিনের সব দুঃখ আর অভাব দূর করে সৌভাগ্য এনে দিয়েছিল। আচ্ছা আপনিও যদি একটি প্রদীপ পান তাহলে কী করবেন? নিশ্চয় দৈত্যকে আপনার সব কষ্ট দূর করে দিয়ে সুখী করতে বলবেন।
আশ্চর্য প্রদীপ হয়তো পাওয়া সম্ভব নয়! তবে সারাবিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বিখ্যাত ব্যক্তিদের ভাস্কর্য ছুঁয়ে বদলাতে পারেন ভাগ্য। হ্যাঁ, এমনই কিছু কাহিনী প্রচলিত আছে। বিখ্যাত ব্যক্তিদের মূর্তির বিশেষ অঙ্গ যেমন নাক, কান কোনোটার আবার জুতা কিংবা স্তন ছুলেই ভাগ্য বদল হবে। বাড়বে মেধা যাতে লেখাপড়ায় হতে পারবেন একেবারে টপার। জানতে ইচ্ছা করছে নিশ্চয় সেই সব ভাস্কর্যের ঠিকানা? জেনে নিন তাহলে। সুযোগ পেলেই একবার ছুঁয়ে আসুন সেই সব বিখ্যাত ভাস্কর্যগুলো। ভাগ্য তো বদলাতেও পারে।
আব্রাহাম লিংকনের ভাস্কর্য
শুরুতেই যেই বিখ্যাত ব্যক্তির ভাস্কর্যের কথা বলছি তাকে চেনেন না এমন কাউকে পাওয়া যাবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সফল রাষ্ট্রনায়ক আব্রাহাম লিংকন। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় রাজ্যের স্প্রিংফিল্ড শহরের ওক রিজ সেমেট্রিতে তার সমাধির বাইরে তারই একটি ভাস্কর্য রয়েছে। তিনি ছিলেন ১৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জনশ্রুতি আছে, লিংকন সাহেবের নাকটি ঘষা দিলেই নাকি ঘুরবে ভাগ্যের চাকা। দর্শনার্থীদের হাতের ঘষায় সোনার মতো জ্বলজ্বল করে! কেউবা মনে করেন, এর মাধ্যমে জ্ঞানের বিকাশ ঘটে!
মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুকুরের ভাস্কর্য
যুক্তরাষ্ট্রের ৩২তম প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের কথা সবাই জানেন। প্রয়াত এই প্রেসিডেন্টের ছিল একটি স্কটিশ পোষা কুকুর। যার নাম ফালা। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ফ্রাঙ্কলিন ডি.রুজভেল্ট মেমোরিয়ালের ভেতরে ফালার আকারের একটি মূর্তি তার মালিকের পাশে বসে আছে। জনশ্রুতি আছে, ফালার নাক ঘষলে ভাগ্যের চাকা ঘুরে যেতে পারে! কেউবা মনে করেন, কুকুরটির কান স্পর্শ করলে সৌভাগ্য আসে। এ কারণে মূর্তির নাক-কান উভয়ই ঘষেন অনেকে!
রানি ভিক্টোরিয়ার পোষা কুকুরের মূর্তি
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে জর্জ স্ট্রিটে কুইন ভিক্টোরিয়া ভবনের বাইরে বেলেপাথরের ওপর একটি কুকুরের মূর্তি রয়েছে। এটি রানি ভিক্টোরিয়ার পোষা কুকুর কেয়ার্ন ইসলের একটি প্রতিরূপ। এর উচ্চতা ৬০ সেন্টিমিটার। বিশ্বের অন্য মূর্তিগুলোর চেয়ে এর আলাদা বিশেষত্ব হলো এটি কথা বলতে পারে! টাকা চেয়ে কুকুরটির একটি রেকর্ডিং ব্রোঞ্জের মূর্তিটির কাছাকাছি লাউডস্পিকারে নিয়মিত বিরতিতে বাজানো হয়। ফালার মতোই এটি আপনার মনোবাসনা পূর্ণ করবে। কথিত আছে, যারা দান করেন তাদের চাওয়া পূরণ হয়।
দালিদার মূর্তি
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে মোমার্ত এলাকার প্লেস দালিদায় অবস্থিত এই আবক্ষ মূর্তি। এটি ফরাসি সংগীতশিল্পী-অভিনেত্রী ইওলন্দা ক্রিস্টিনা জিগলিওতির স্মৃতিতে তৈরি হয়েছে। পেশাদার আঙিনায় দালিদা নামে পরিচিতি ছিলেন তিনি। বিশ্বব্যাপী তার অ্যালবাম আর সিঙ্গেলের ১৭ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল। তিনি ছিলেন প্যারিসের প্রিয়তমা। ১৯৮৭ সালে আত্মহত্যা করেন দালিদা। তার ১০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে মূর্তিটি স্থাপন করা হয়। ঐতিহ্য অনুযায়ী, মূর্তিটির স্তন স্পর্শ করলে সৌভাগ্য আসে!
জন হার্ভার্ডের মূর্তি
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের ক্যামব্রিজ শহরে অবস্থিত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা যাজক জন হার্ভার্ড। অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়টির কাছে হার্ভার্ড ইয়ার্ড পার্কে রয়েছে তার একটি মূর্তি। অনেকের বিশ্বাস, তার বাঁ পা সৌভাগ্য বয়ে আনে! তাই পরীক্ষায় ভালো ফল পেতে শিক্ষার্থীরা মূর্তির বাঁ পায়ের বুট ঘষে।
সাধারণ একজন মানুষের মূর্তি
হাভানার ওল্ড টাউনে পর্যটন মৌসুমে গেলে জনসমাগমে ব্রোঞ্জের মূর্তিটি হয়তো চোখেই পড়বে না! পর্যটকদের ভিড়, পারফরম্যান্স আর্টিস্ট, আইসক্রিম ও ডাব বিক্রেতার ভিড়ে এটি তখন হারিয়ে যায়। হোসে মারিয়া লোপেজ জেডিন ওরফে প্যারিসের জেন্টেলম্যান খ্যাত একজন ব্যক্তির অবয়বে অনুপ্রাণিত এই মূর্তি। বিংশ শতাব্দীতে হাভানার সড়কে এমন মানুষ ছিল চেনা। ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে মূর্তিটির দাড়ি ছুঁতে হবে আপনাকে।
প্রাগের চার্লস ব্রিজে নিহত জনের মূর্তি
চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগের চার্লস ব্রিজের দুইপাশে অনেক মূর্তি। তবে পর্যটকদের ভিড় এবং স্ট্রিট আর্ট ও স্যুভেনির স্ট্যান্ডের কারণে এগুলো সবসময় চোখে পড়ে না। অবশ্য এর মধ্যে একটি মূর্তি মিস করা যায় না! ওল্ড টাউন থেকে প্রাগ ক্যাসেলের দিকে হাঁটতে থাকলে ডান দিক থেকে অষ্টম মূর্তিটি নেপোমুক শহরের জনের। চতুর্দশ শতকে রাজার নির্দেশে সেতুর ঠিক এখান থেকে সেন্ট জনকে ফেলে হত্যা করে হয়েছিল। স্থানীয়দের বিশ্বাস, মূর্তির ডান হাতের ফলক স্পর্শ করে মানুষ যা আশা করে তা সত্যি হয়ে যায়।
কিশকিরাইলান
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের সিচেনি চেইন ব্রিজের কাছে ট্রামলাইন পথ ঘেঁষা রেলিংয়ের ওপর বসে আছে ছোট্ট রাজকুমারি! এটি ভাস্কর লাজলো মার্তনের সৃষ্টি। রাজকন্যার পোশাকের প্রতি ভালো লাগা ছিল তার মেয়ের। তাই ভাস্কর্যটি তৈরিতে অনুপ্রাণিত হন তিনি। তার গায়ে হাতাহীন পোশাক, মাথায় সংবাদপত্রের মুকুট। ৯০ দশকে মূর্তিটি স্থাপন করা হয়। তখন থেকেই সৌভাগ্যের জন্য এই ভাস্কর্যের হাঁটু স্পর্শ করা পথচারীদের ঐতিহ্য।
নর্দমাকর্মী কুমিলের ভাস্কর্য
কুমিল দ্য সিউয়ার হচ্ছে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মূর্তি। এটি ওয়ার্কারস্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভার পুরনো শহরের লরিন্সকা ও পান্সকা সড়কের মোড়ে অবস্থিত। সড়কের মাঝে তৈরি করা হয়েছে এই ভাস্কর্যটি। দেখলে আপনার মনে হবে যেন ম্যানহোলের ভেতর থেকে উঠে আসছে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কুমিল!
তার মুখখানা বেশ হাসিখুশি। ১৯৯৭ সালে পুনর্গঠন প্রকল্পের অংশ হিসেবে মূর্তিটি ফুটপাতে স্থাপন করা হয়। তবে স্থানীয়রা এর বিপক্ষে ছিলেন। কারণ মূর্তির মাধ্যমে নাকি মনে হবে, কাজ ফেলে মেয়েদের স্কার্টে তাকিয়ে আছে কুমিল! স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, কুমিলের টুপির ওপরিভাগ স্পর্শ করে মানুষ যা আশা করে তা সত্যি হয়!
কথাশিল্পী মারিন দ্রিজিকের মূর্তি
ক্রোয়েশিয়ার অমর কথাশিল্পী মারিন দ্রিজিক পাঠকমহলে ডুব্রোভনিকের ‘শেক্সপিয়র’ হিসেবে পরিচিত। শহরটির চার্চ অব সেন্ট ব্লেইজের সামনের রাস্তায় তার একটি মূর্তি আছে। ডুব্রোভনিকের লাল ছাদ বিশিষ্ট ওল্ড টাউনের রেক্টরস প্যালেস জাদুঘরের কাছে এটি অবস্থিত। সৌভাগ্য আনতে ঘষতে পারেন এই শিল্পীর মূর্তির নাক। এই মূর্তিটির নাক ঘষতে ঘষতে এর রং হয়ে গেছে সোনালি।
সূত্র: ডেইলিমেইল