রাড্ডাকাণ্ডে নুর আলমসহ গ্রেপ্তার ১৬
মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৩০ জনকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে শনাক্ত হওয়া বাকি ১৪ জন এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের ধরতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় আরও প্রায় ২৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর ভারী যন্ত্র দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির একটি বড় অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়।
.png)
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়া ও নির্দেশনা দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি। তবে প্রযুক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।
সর্বশেষ ১ অক্টোবর রাতে শাহ আলীর গুদারাঘাট এলাকা থেকে নুর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শাহ আলী থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং শুটার লেলিন নামে পরিচিত আবুল কালাম আজাদের সহযোগী বলে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে। তাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১৬-তে দাঁড়ায়।
এর আগে রাড্ডা সেন্টারে হামলায় সোহেল, জুয়েল, জিহাদ হাসান, রাব্বি, শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, শাহ আলম, আতিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম, শাকিল, মিন্টু, মিলন, সাইফুল ইসলাম খোকন, আলম ও লোবেড গাড়ির চালক শহীদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, হামলার আগে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে শুটার লেলিনের কার্যালয়ের সামনে লোকজন জড়ো হয়। এজাহারভুক্ত আসামি বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ মিয়ার কার্যালয়ের সামনেও লোকজন জড়ো হওয়ার তথ্য সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে বলে তারা দাবি করেছেন।
হামলাকারীদের একটি অংশ পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে লাঠিসোঁটা, রামদা ও হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। হামলার সময় একটি সাদা মাইক্রোবাস ঘটনাস্থলের আশপাশে চলাচল করতে দেখা গেছে বলেও তারা দাবি করেন। হানিফ মিয়া, মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেল এবং আবুল কালাম আজাদ ওরফে শুটার লেলিন হামলার সময় ওই এলাকায় থেকে নির্দেশনা দিয়েছেন—এমন অভিযোগও তদন্তে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে হামলার ঘটনায় বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হলেও রাড্ডা সেন্টারে হামলার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে।
রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হয়েছে। এর আগে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে পুলিশি গাফিলতি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তদন্তে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে।
এ ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তদন্তে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পক্ষ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়। মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ ২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।