ধ্বংসস্তূপের সামনেই চলছে রাড্ডা সেন্টারের স্বাস্থ্যসেবা
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ধ্বংসস্তূপের সামনে বসেই দ্বিতীয় দিনের মতো রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন কর্মীরা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩৭ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। সব মিলিয়ে আজ প্রায় অর্ধশত মানুষ এই কেন্দ্র থেকে সেবা পেয়েছেন।
.png)
দেখা গেছে, কেন্দ্রটির সামনে সড়কের ওপর রোগীদের সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। টিকাদানের পাশাপাশি এই কেন্দ্রে মা ও শিশুদের বিভিন্ন সেবা দেওয়া হতো। গর্ভবতী নারীদের কম খরচে আল্ট্রাসনোগ্রাম, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ ছিল। কিন্তু স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এসব সেবা এখন বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক রোগী এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
ডাক্তারদের পরামর্শ নিতে এসেছিলেন মনোয়ারা বেগম। তবে ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে আসা মানুষের ভিড় দেখে তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষেরা এখন কোথায় যাবে?’
সেবা নিতে আসা রোগীরা সরকারের কাছে দ্রুত এ সংকটের সমাধান এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া স্বাস্থ্যসেবাগুলো পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
রাড্ডা সেন্টারে চিকিৎসাসেবা দেওয়া প্যারামেডিক ফারজানা বলেন, আগে শিশুদের কার্ড পূরণ করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে টিকা দেওয়া হতো। তাদের ওজন ও উচ্চতা মাপার পাশাপাশি পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শও দেওয়া হতো। সন্তান জন্মের পর মায়েদের পুষ্টি পরামর্শ, পরিবার পরিকল্পনা ও প্রসব-পরবর্তী সেবাও দেওয়া হতো। কিন্তু এখন এসব সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকে প্রথমে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। এরপর মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।