প্রবাসী নারীর ফাঁদ, যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে দেহ ব্যবসায় বাংলাদেশি তরুণ
উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের টার্গেট করে দেওয়া হয় বিয়ে। পরে নিয়ে যাওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রে। তবে সেখানে যৌন নির্যাতন চালায় একটি মানবপাচার চক্র। এমনকি দেহ ব্যবসায়ও বাধ্য করা হয়। এক পর্যায়ে মুক্তিপণ হিসেবে দেশে থাকা পরিবারের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে চক্রটি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ফেরত এক প্রবাসীর অভিযোগে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জানা যায়, প্রবাসী এক নারীকে বিয়ে করে স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে যান চট্টগ্রামের গৌরব সাঞ্জারি। প্রথমে দিন ভালো কাটলেও দুই মাস না যেতেই গৌরবের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। যে পরিবারে গৌরব বিয়ে করেন তারা বলেন, সপ্তাহে ৫ দিন অন্য কাজ করতে হবে। এই তরুণের অভিযোগ, ঐ ৫ দিন মূলত দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করা হতো।
গৌরব যখন বুঝতে পারেন, তাকে দিয়ে এই ব্যবসা করানোর জন্যই যুক্তরাষ্ট্রে নেয়া হয়েছে, ততক্ষণে বেশ দেরি হয়ে গেছে। দিন যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমেরিকা ফেরত এই প্রবাসীর ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে নিউ বার্লিন শহরে বন্দি করে রাখা হয়। সেখানেও চালানো হয় সমকামী যৌন নির্যাতন।
গৌরব বলেন, ওদের মূলত একটা ফন্দি ছিল। ৫ দিন আমাকে দিয়ে যৌনকর্ম করাতো। আর সপ্তাহে দুইদিন দেখাতো যে আমি কাজ করছি।
যার মাধ্যমে বিয়ে করেছিলেন সেই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে গৌরব বলেন, শাহাবুদ্দিন আমাকে বিভিন্ন জায়গায় নানারকম বাসায় বন্দি করে রাখে। এক পর্যায়ে নিউ জার্সির একটা ভবনের বেসমেন্টেও আটকে রাখে। আমি ৩ দিন না খেয়ে থাকার পর যখন তাকে বলি, আমার খুব খারাপ লাগছে, ৩ দিন না খেয়ে আছি। তখন শাহাবুদ্দিন এসে আমার দুই হাত পেছন দিকে নিয়ে বেঁধে স্কচটেপ দিয়ে মুখ বন্ধ করে সেখানে ফেলে রাখে।
তিনি জানান, এক পর্যায়ে নিউ বার্লিন শহরেও তাকে বন্দি রাখা হয়। শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানের ছবি তুলে রেখে হুমকি দেওয়া হয়, যদি পুলিশের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয় তাহলে এসব ছবি পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটে ছেড়ে দেবো। পরে দেশে থাকা পরিবারের কাছে ৬০ হাজার ডলার দাবি করা হয়। গৌরব জানান, তারা চাপ দিয়ে বলতে থাকে তোমার বাবা-মাকে বলো টাকা দেওয়ার জন্য। বাড়ি-ঘর বিক্রি করে বা কিডনি বিক্রি করে টাকা দিতে বলা হয়।
পরে গৌরব যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে ই-মেইলে সব ঘটনা জানান। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে মেডিকেল রিপোর্টেও উঠে আসে যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য। অবশেষে সেখান থেকে পালিয়ে এক সংগঠনের দ্বারস্থ হন তিনি। পরে তাকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত গৌরব দেশে ফিরে এই চক্রের ১৪ জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আর ঘটনা সম্পর্কে জানতে গৌরবকে ডেকেছে ঢাকার আমেরিকান দূতাবাস।