সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন- আল-আমিন, মো. শুভ ও রিমন হোসেন।
.png)
আসাদুজ্জামান বলেন, আসামি শুভ ভ্যান চালিয়ে মোহাম্মদপুর থেকে তিনজন কেরানীগঞ্জ থানাধীন আরশিনগর এলকায় এসে উপস্থিত হয়। তারা চুরি করার জন্য পাশাপাশি বিল্ডিং আছে কিন্তু সিকিউরিটি গার্ড নাই এমন বাসা খুঁজতে থাকলে তাদের চোখে ইউনুস মিয়ার বাড়িটিকে সুবিধাজনক বলে মনে হয়। ভ্যান নিয়ে রিমন অপেক্ষায় থাকে এবং শুভ ও আল-আমিনকে বাসায় ঢুকার জন্য পাঠিয়ে দেয়। এরপর আল আমিন ভেন্টিলেটর ভেঙে চার তলার ভাড়াটিয়া প্রকৌশলী সদরুল আলমের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। এরপর শব্দ পেয়ে সদরুল আলমের ঘুম ভেঙে গেলে সে চোর চোর বলে আল-আমিনকে ধরতে যান। তখন আল-আমিন তাকে সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে নৃসংশভাবে হত্যা করে পালিয়ে আসে।
পুলিশ সুপার বলেন, আসামি আল আমিনকে আরশিনগর এলাকা থেকে তার পকেটে থাকা একটি সুইচ গিয়ার চাকুসহ গ্রেফতার করা হয়। সে একজন পেশাদার চোর, প্রতিদিন রাতে তার বন্ধু শুভ ও রিমনসহ একটি ভ্যানে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভেন্টিলেটর দিয়ে বাসা-বাড়ি ও বিভিন্ন অফিসে ঢুকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মালামাল চুরি করে। তাদের মধ্যে আসামি শুভ ও রিমন প্রায় ১০ বছর ধরে ভেন্টিলেটর ভেঙে চুরি করে আসছে। আল আমিনকে সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে শুভকে মোহাম্মদপুর থানাধীন লাউতলা এলাকা থেকে ভ্যানসহ গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে মোহাম্মদপুর থেকে রিমনকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, প্রকৌশলী সদরুল আলম (৪০) কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আরশিনগর এলাকায় ফ্ল্যাট বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে একা বসবাস করতেন। গত ১২ আগস্ট রাতে অফিসের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পরেন। পরদিন সকালে বাসার মালিক মো. ইউনুস মিয়া একটি মানিব্যাগ পান। মানিব্যাগের ভিতরে থাকা সদরুল আলমের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স পেলে তাকে জিজ্ঞাসা করার জন্য তার রুমের সামনে গিয়ে দরজা খোলার জন্য ডাকাডাকি করতে থাকেন। রুমের ভিতর থেকে কোন সাড়া-শব্দ না আসায় তিনি ৯৯৯ এ কল করেন। কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে মৃতদেহ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় নিহতের বড় বোন মোসা. রেবেকা সুলতানা রত্না বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন।