বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের মনিরুজ্জামানের মেয়ে সুপ্তি। দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। ঢাকায় উত্তর বাড্ডার মিসরিটোলা এলাকার ফুজি টাওয়ারের পেছনে একটি ৬ষ্ঠ তলা বাড়ির ৩য় তলায় ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে থাকতেন সুপ্তি।
.png)
ঐ ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সামসুন্নাহার মিতু জানান, তাদের ভাড়া বাসার একটি রুমে ৫ মাস যাবৎ সাবলেট হিসেবে থাকতেন সুপ্তি। প্রায় সময় তিনি পড়ালেখা নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে যান সুপ্তি। এর কিছুক্ষণ পর বাথরুমের ভিতর থেকেই দরজা ধাক্কাধাক্কি করে আপু আপু বলে ডাকছিলেন তিনি। বাথরুমের ভেতর পড়ে আছেন, দরজা খোলারও শক্তি নেই বলে বারবার দরজা খুলে তাকে বের করতে বলছিলেন। তবে মিতু কিছুতেই বাইরে থেকে দরজা খুলতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে আশপাশের ভাড়াটিয়াদের সহযোগিতায় বাথরুমের দরজা ভেঙে দেখেন, ভিতরে উপুর হয়ে পড়ে আছেন সুপ্তি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
সুপ্তির চাচা অধ্যাপক আফসার আহমেদ বাবলু জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার মাস্টার্স শেষ করেছেন তিনি। এরপর ঢাকায় থেকে বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। উত্তর বাড্ডার ওই বাসায় সাবলেট হিসেবে ভাড়া থাকতেন। তার মাও তার সঙ্গে থাকতেন। তবে কিছুদিন আগে তার মা গ্রামে যান। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিকস ছিল সুপ্তি।
তাদের ধারণা, অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
তবে চিকিৎকদের কাছে তার মৃত্যু বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় ময়নাতদন্তের সুপারিশ করেছেন। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ঘটনাটি বাড্ডা থানা পুলিশ তদন্ত করছে।