গুলিস্তান, রায়সাহেব বাজার, বংশাল ও নয়াবাজার মোড় ঘুরে দেখা যায়, সড়কের দুই ধারের ফুটপাত বিভিন্ন ভাসমান দোকানদারদের দখলে। এছাড়াও রাস্তার উপর চলছে ফুটপাত সংলগ্ন দোকানগুলোর বিভিন্ন পণ্য ট্রাকে ওঠানো-নামানোর কাজ। ফলে দখল হয়ে আছে ফুটপাতসহ মূল সড়কের অংশও। এছাড়া রাস্তার দুই পাশে রাখা সারিসারি রিকশার উৎপাতও যানজট বাড়িয়ে তোলে। যানবাহন তো বটেই, পায়ে হেঁটে চলাচলও কষ্টকর।
পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাত পরিণত হয়েছে ভ্রাম্যমাণ রেস্তোরাঁয়। অপরদিকে লক্ষ্মীবাজার সড়কের সঙ্গে মহানগর মহিলা কলেজ, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, গভর্মেন্ট মুসলিম হাইস্কুলসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাপে যানজট পায় ভিন্ন মাত্রা।
.png)
রাজধানীর পুরান ঢাকার সদরঘাট এলাকায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কয়েকটি কলেজসহ রয়েছে ঢাকা জর্জ কোর্ট, সিএমএম কোর্ট, সিজেএম কোর্ট। ফলে শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন ছাড়া বাকি দিনগুলোয় মানুষের যাতায়াত বেশি হয়। গুলিস্তান থেকে মালিটোলা পার্ক পর্যন্ত সড়কে রয়েছে অসংখ্য ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি। সন্ধার পরেই শুরু হয় এই এজেন্সিগুলোর মালামাল ওঠানো-নামানো। এতে অনেক সময় সড়কের বিশাল অংশ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া দেশের অন্যতম বাণিজ্যক এলাকা পুরান ঢাকায় দেশের বৃহত্তম নৌবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। যেখানে প্রতিনিয়ত দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের পদচারণা রয়েছে। এসবের ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার টালমাটাল অবস্থাসহ যানজটে নাকাল হচ্ছে হাজারো মানুষ।
এছাড়াও পুরান ঢাকায় রয়েছে কয়েকটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র। বই ব্যবসার জন্য বাংলাবাজার, পোশাক ব্যবসার জন্য ইসলামপুর, বাদামতলীর ফল আড়ৎ ও শ্যামবাজারের সবজি আড়তে প্রতিদিন ঢল নামে লাখো ক্রেতার। আর এ সময় ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় পথচারীদের মূল সড়ক দিয়েই হেঁটে যেতে হয়। ফলে বিঘ্নিত হয় যান চলাচল।
এদিকে যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে সদরঘাট দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন রুটে চলাচল করা পরিবহনগুলোকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, পরিবহন চালকরা আইনের তোয়াক্কা না করে রাস্তার উপর থেমে থেমে যাত্রী ওঠানো-নামানো করে। এর ফলে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
অফিসের কাজে বসুন্ধরা থেকে আসা রফিক মিয়া বলেন, পল্টন পর্যন্ত মোটামুটি ভালোভাবে যাতায়াত করা যায়। কিন্তু গুলিস্তান এলেই যত বিপত্তি। গুলিস্তান থেকে সদরঘাট যাওয়া যেন যুদ্ধ জয় করার মতো ব্যাপার। ফেরার সময় আবার সদরঘাট থেকেই পড়তে হয় ভয়াবহ যানজটে।
এ বিষয়ে পুরান ঢাকার সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গার্লস স্কুলের শিক্ষার্থী অদৃতি পাল বলেন, এই সড়কে চলাফেরা করা খুবই কঠিন। চলার পথে অনেক সময় হয়রানির শিকারও হতে হয়।
ফুটপাত দখলের বিষয়ে কিছু পথচারীদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য লাখ-লাখ মানুষের যাতায়াতের জায়গা দখল হতে দেওয়া যায় না। ভয়াবহ যানজট কমাতে হলে অবশ্যই সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে হকারদের পুনর্বাসনের প্রয়োজনে হকার্স মার্কেট নির্মাণের কথাও বলেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪২-নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ সেলিম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, চলাচলের রাস্তায় কষ্ট দেওয়া মানে সৃষ্টিকর্তাকে কষ্ট দেওয়া। আমার জায়গা থেকে আমি চেষ্টা করি যতটুকু কাজ করা যায়। সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রায়ই উচ্ছেদ অভিযান করা হচ্ছে। তবুও এটাকে পুরোপুরি উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে।
এ বিষয়ে লালবাগ জোনের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. জাফর হোসেন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বেশিরভাগ সময়ই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়ে থাকে। তারপরও ফুটপাত দখল হয়ে যায়। এগুলো অপসারণে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।