ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অনার্স শেষ না করেই ২০০৯ সালে রাশিয়ায় চলে যান রেশাদ আকবর প্রত্যয়। সেখানে জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে চার বছর মেয়াদী অনার্স করেন। এরপর পিএইচডি শুরু করেন। করোনাকালে দেশে ফিরে আসেন তিনি।
তবে বাংলাদেশে এসে কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাননি প্রত্যয়। এ নিয়ে বেশ হতাশায় ভুগছিলেন। প্রেম করে বিয়ে করার দুই বছরের মাথায় আর্থিক অনটনের জেরে ভেঙে যায় তার সংসারও।
.png)
রাজধানীর পল্লবী থানার মিরপুর-১২ নম্বরের সি ব্লকের ২ নম্বর সড়কের একটি ভাড়া বাসা থেকে গত ২৯ এপ্রিল প্রত্যয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ৩৬ বছর বয়সী প্রত্যয় সর্বশেষ একটি বায়িং হাউজে চাকরি করতেন। নিজেই ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা পুলিশের। তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি চিরকুট। যেখানে ‘আত্মহত্যার’ ইঙ্গিতপূর্ণ কথা লিখেছেন তিনি।
পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, আমরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। নিহত প্রত্যয়ের বাবা জানিয়েছেন ঘটনার আগের দিন রাতে তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তখন প্রত্যয় মুঠোফোনে বলেছিলেন, বাবা আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারলাম না, পারলে ক্ষমা করে দিও।
প্রত্যয়ের বড় ভাই আসিফ বলেন, প্রত্যয় অত্যন্ত মেধাবী। ও এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্র। রাশিয়া থেকে দেশে ফিরে বিয়ে করে। এর মধ্যেই করোনা চলে আসে। ওর যোগ্যতা অনুযায়ী দেশে চাকরি মিলছিল না। টুকটাক বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ শুরু হয়।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিভাগের এক সহপাঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেমের পর বিয়ে করেছিল প্রত্যয়। দুই বছরের মধ্যে তা বিচ্ছেদে রূপ নেয়। যোগ্যতা অনুযায়ী দেশে চাকরি না পাওয়াটা মানতে পারেনি প্রত্যয়।
আসিফ আরো বলেন, আত্মহত্যা কি না তা তদন্তে স্পষ্ট হবে। তবে পারিপার্শ্বিক অবস্থা, চিরকুট, বাবাকে ফোনে বলা কথা ও সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী পুলিশ আত্মহত্যা বলছে। আমার ভাইয়ের মৃত্যুটা অনাকাঙ্ক্ষিত।