ঢাকা,  সোমবার   ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

[ ক্যাম্পাস ]

অছাত্রদের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:১৮, ৫ অক্টোবর ২০২৬
অছাত্রদের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন বলে জানা গেছে। ভিডিও ও ছবিতে চিহ্নিত হামলাকারীদের কয়েকজন ছাত্রদলের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। তাঁদের কারও কারও বিরুদ্ধে অতীতেও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।

হামলার ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের আহসান হাবীব, ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের হাসিবুল ইসলাম, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শরিফুল ইসলাম, আইবিএর ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তাকবীর আহমেদ ইমন, সংগীত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শাহরিয়ার আলম অথি এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম।

তাঁদের মধ্যে আহসান হাবীব, হাসিবুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, তাকবীর আহমেদ ইমন, শাহরিয়ার আলম অথি ও সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ছাত্রদলের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শাহরিয়ার আলম অথি ও সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ছাড়া বাকিরা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন বলে জানা গেছে।

হামলায় ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তীরও সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তিনি অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আগে শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিবের সঙ্গে রাজনীতি করলেও পরে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন বলে জানা গেছে। প্রথম বর্ষেই তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় বলেও দাবি করা হয়েছে।

আহসান হাবীবকে ঘিরে আগের অভিযোগ

হামলায় আহসান হাবীবের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ভিডিওতেও তাঁকে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে এক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে আহসান হাবীবের ফোনালাপ ফাঁসকে কেন্দ্র করে তাঁকে রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তখন তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। তবে আহসান হাবীবের দাবি ছিল, ফোনালাপটি সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হয়েছিল।

এর কয়েক মাস পর, ২০২৫ সালের জুনে, রাবির আইবিএর এক শিক্ষার্থী প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় তাঁকে মারধর, টাকা নেওয়া এবং ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার কথা বলা হয়। ওই অভিযোগে আহসান হাবীবের নামও ছিল।

হাসিবুলের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ

ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অতীতে বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের আগস্টে তিনি সাত পিস ভারতীয় মাদক ট্যাপেন্টাডলসহ আটক হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ছাত্রলীগ নেতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে একসময় সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলেও দাবি রয়েছে। নিজের মালিকানা দাবি করে অন্যের ফুডকার্ট দখল এবং বহিরাগতদের নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা অবশ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা বিচারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ছাত্রদল সভাপতির দাবি

তবে হামলায় জড়িতদের কেউ অছাত্র নন বলে দাবি করেছেন রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী।

তিনি বলেন, ‘না, অছাত্র কেউ নেই। গতকালের বিষয়টি আমরা গভীরভাবে তদন্ত করছি। কোনো অন্যায়কারীকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কেন এবং কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।’

আগের অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগের ঘটনাগুলো পরে প্রমাণিত হয়নি। এ কারণে এবার আমাদের আরও সতর্কভাবে তদন্ত করতে হচ্ছে। আমরা সবার বক্তব্য নিচ্ছি। যারা হামলায় জড়িত ছিলেন, তাঁদের বক্তব্যও নিয়েছি। তাঁদের বক্তব্য যাচাই করে যদি তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে। একই ঘটনায় ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও তদন্তের কথা জানানো হয়েছে।

 

ডেইলি-বাংলাদেশ/রাবি/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!