ঢাকা,  সোমবার   ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

[ ক্যাম্পাস ]

কুবির নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতে প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৪৫, ৫ অক্টোবর ২০২৬
কুবির নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতে প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীমের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা।

এ ছাড়া সভায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতিনিধি, জেলা পরিষদ, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুমিল্লা ওয়াসা, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের প্রতিনিধি ছাড়াও পরিবহনচালক, হোটেল মালিক ও আবাসিক মেস মালিকরা অংশ নেন।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অন্যান্য অংশীজনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবা উন্নয়নে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ময়নামতি জাদুঘরসংলগ্ন এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, নজরুল হলে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, আবাসিক মেস ও বাসার নিবন্ধন, শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবায় অগ্রাধিকার, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করা এবং বেলতলী আন্ডারপাসের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, ছিনতাই ও চুরি প্রতিরোধে পুলিশ কাজ করছে। নিয়মিত সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ টহল দেওয়া হচ্ছে। তবে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং, ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র প্রদর্শন করলে তাদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, এটি মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিষয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও চাহিদা উল্লেখ করে লিখিত আবেদন করতে হবে।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, ‘আমরা যে সমাজে বসবাস করি, বিশ্ববিদ্যালয় সেই সমাজেরই একটি অংশ। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যার জায়গা হচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে থাকা লালমাই পাহাড়গুলোতে আইনগত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই, এমনকি কোনো পুলিশ ফাঁড়িও নেই। ফলে যারা টিউশন করে কিংবা লাইব্রেরি থেকে রাতে ফেরে, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে পুরো কুমিল্লার সম্মান জড়িত। তাই শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাস পর্যন্ত পুরো সড়কে দ্রুত পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সড়ক প্রশস্ত ও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তান সন্ধ্যা থেকেই নিখোঁজ হয়েছিল। তাকে খুঁজতে আমরা আশপাশের সব বন-জঙ্গলে অভিযান চালিয়েছি। আমি অস্বীকার করব না, কুমিল্লার র‍্যাব থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন প্রত্যেকেই আমাদের সহযোগিতা করেছে। প্রশাসনের সব সহযোগিতা হয়তো দৃশ্যমান হয়নি। তারা তাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, আমরাও এখান থেকে চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমরা অপ্রতিমকে খুঁজে পাইনি, তার মরদেহ পেয়েছি।’

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উপাচার্য কুমিল্লার মেস মালিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরে আপনাদের মেস বা বাসা-সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করে যাবেন। নিবন্ধনবহির্ভূত মেসে শিক্ষার্থীদের না ওঠার জন্য আমরা নিরুৎসাহিত করব।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/কুবি/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!