এক যুগ পেরিয়ে ১৩ তম বছরে জবি প্রেসক্লাব
প্রগতিশীলতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও নিরপেক্ষতাকে মূলমন্ত্র হিসেবে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রেসক্লাব গৌরবময় পথচলার এক যুগ পূর্ণ করে ১৩তম বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অধিকার, দাবি-দাওয়া ও বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরছে সংগঠনটি।
২০১৪ সালের ৩ অক্টোবর একদল তরুণ শিক্ষার্থীর উদ্যোগে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ, শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষার প্রত্যয় নিয়ে জবি প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ পথচলায় সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংকট, শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।
.png)
শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, টিউশন ফি, প্রশাসনিক বিভিন্ন অনিয়ম, হল আন্দোলন ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়নসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেছে জবি প্রেসক্লাব। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং শিক্ষার্থীদের অর্জন ও সাফল্যের খবর জাতীয় গণমাধ্যমে তুলে ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরেছে সংগঠনটি।
সাংবাদিকতা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা, হুমকি ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন সংগঠনটির সদস্যরা। এরপরও দায়িত্ব থেকে সরে না গিয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ন্যায্য দাবির পক্ষে তারা কাজ করেছেন। জাতীয় বিভিন্ন সংকট ও আন্দোলন-সংগ্রামেও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন জবি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও ঝুঁকি উপেক্ষা করে মাঠে ছিলেন সংগঠনটির সাংবাদিকরা। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের বাস্তব চিত্র, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি এবং ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন তারা। এ কারণে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার পাশাপাশি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহেরও অংশ হয়ে উঠেছে সংগঠনটি।
শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতার দাবিতে যমুনা অভিমুখী আন্দোলনেও জবি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা মাঠে থেকে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করেছেন। এ সময় সংগঠনটির বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।
ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বিকাশের পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতেও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, আলোচনা সভা ও অন্যান্য কার্যক্রম আয়োজন করে আসছে প্রেসক্লাব। সংগঠনের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজের মাধ্যমে নিজেদের সাংবাদিকতার দক্ষতাও তুলে ধরেছেন।
জবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিমন ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পেশা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন অনিয়ম-অসংগতির বিষয় বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরাই সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সময়মতো তথ্য পাওয়া এবং নানা চাপের মধ্যেও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বড় চ্যালেঞ্জ। কোনো পক্ষের প্রতি অনুরাগ বা বিরাগ নয়, সত্য ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।
লিমন ইসলাম আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ তৈরি করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। জবি প্রেসক্লাব ভবিষ্যতেও বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে।
জবি প্রেসক্লাবের সভাপতি মুসফিকুর রহমান বলেন, ১৩ বছরের পথচলায় সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ, শিক্ষার্থীদের অধিকার, সাফল্য ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সত্য ও ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা। তাই প্রতিটি সদস্যকে বস্তুনিষ্ঠতা, সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে গুজব ও অপতথ্য থেকে দূরে থেকে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ করাই জবি প্রেসক্লাবের অঙ্গীকার।
জবি প্রেসক্লাব আরও সমৃদ্ধ ও পেশাদার হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।