ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ক্যাম্পাস ]

চবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে 'কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট'-এর ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৫৭, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে 'কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট'-এর ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু
ডেইলি বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এটিই প্রথম কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট।

চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউটটি এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডারিন ভাষা শেখার পাশাপাশি চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশ-চীন ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণেও প্রতিষ্ঠানটি অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

Advertisement

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের মিলনায়তনে ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের পঞ্চম তলায় ইনস্টিটিউটের ফলক উন্মোচন করেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান চাওছি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল শাহীন খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চবি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দিনটি ঐতিহাসিক। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা হিসেবে চীনা ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা গেলে তাদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

চীনা প্রতিনিধি রুয়ান চাওছি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটকে তিনি ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিচ্ছবি হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, বর্তমান সরকার তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চবির আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে চীনা ভাষাসহ প্রায় আট থেকে নয়টি ভাষা অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।

সমাপনী বক্তব্যে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসনের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অনুদান শ্রেণিকক্ষ তৈরি ও অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নতুন এই ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের চীনা ভাষা শিক্ষা, চীনে উচ্চশিক্ষা এবং দুই দেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/চবি/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!