আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বের হতে হবে: গয়েশ্বর
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, বৈশ্বিক পরিবেশ দূষণের বড় অংশের জন্য উন্নত দেশগুলো দায়ী হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে শিল্পায়ন থেকে দূরে রাখতে নানা ধরনের শর্ত ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিক ভবনে আয়োজিত শরৎমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের কারিগরদের জন্মগত মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে তৈরি দেশীয় পণ্যের মান ও নান্দনিকতা অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে গার্মেন্টসসহ অন্যান্য কর্মসংস্থানের তুলনায় কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষকে আরও স্বাবলম্বী করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
দেশীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ পণ্যের চাহিদার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জামালপুরের নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, মাটির তৈজসপত্র ও টেরাকোটার মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যের এখনও ব্যাপক কদর রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার মধ্যেও মানুষ প্রকৃতি ও ঐতিহ্যভিত্তিক পণ্যের দিকে আবারও আগ্রহী হচ্ছে। এসব পণ্য মানুষের সৌন্দর্যবোধকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, শুধু পণ্য উৎপাদন করলেই হবে না, তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যকর প্রচার ও বিপণন ব্যবস্থাও প্রয়োজন। এ সুবিধা বাড়ানো গেলে কুটির শিল্পের বাজার সম্প্রসারিত হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
কুটির শিল্পের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের বিষয়টিও তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া অনেক নারী ঘরে বসে কুটির শিল্পের বিভিন্ন কাজ করে আয় করছেন। এর মাধ্যমে তারা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করছেন।
বৈশ্বিক পরিবেশ দূষণ প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিশ্বে পরিবেশ দূষণের বড় একটি অংশ উন্নত দেশগুলোর কর্মকাণ্ডের কারণে হলেও উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর ওপর বিভিন্ন ধরনের শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের দায় ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
প্রশাসনিক আমলাতন্ত্র ও ফাইল আটকে রাখার সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলের আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, ‘ফাইলের চাকা ঘোরাতে হবে।’ অর্থাৎ ফাইল আটকে না রেখে দ্রুত কাজ নিষ্পত্তি করতে হবে। এতে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
বিসিক ভবনের নিচতলায় আয়োজিত শরৎমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুস নাসের খান ও অতিরিক্ত সচিব নুরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বিসিক ভবনে শুরু হওয়া ‘শরৎমেলা’ আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। মেলায় শতাধিক স্টলে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা খোলা থাকবে।