ঢাকা,  সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ বাংলাদেশ ]

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:৫৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
সংগ্রহীত ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন (Yao Wen)।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

Advertisement

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ বিনিময় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে ইয়াও ওয়েন জানান, আগামী অক্টোবরের শুরুতে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হবে এবং এরপর তিনি বাংলাদেশ ছাড়বেন। এ সময় তিনি চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি চীনের পাবলিক সিকিউরিটি বিষয়ক ফোরামে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে চীন সফরের জন্য সালাহউদ্দিন আহমদকে আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ করে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, গত দুই বছরে চীন বাংলাদেশের ১০০-এর বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে সাইবার অপরাধ, পাবলিক সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট, ট্রাফিক ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা, ইমিগ্রেশন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সহযোগিতার জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার পুলিশ বাহিনীর জন্য বিশেষায়িত সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় ইউনিট পর্যন্ত ডিজিটাল ফরেনসিক ও সাইবার ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে চীনা বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে পাঠানো এবং দেশটির ল্যাব পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পরামর্শ দেন ইয়াও ওয়েন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সিআইডির নেতৃত্বে একজন অতিরিক্ত আইজিপি, একজন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং সাইবার ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীনে পাঠানো হবে। প্রতিনিধি দলটি দেশটির সাইবার ল্যাব ও প্রযুক্তি পরিদর্শন করে বাংলাদেশে ফরেনসিক ল্যাব ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তৈরি করবে।

ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী ও বিনিয়োগকারী দেশ। তিনি বাংলাদেশে কর্মরত চীনা নাগরিক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী এবং কৌশলগত উন্নয়ন অংশীদার। বাংলাদেশে বসবাসরত চীনা নাগরিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরতদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ//একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!