ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিল্প ও সাহিত্য ]

জিঘাংসা

মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ
প্রকাশিত: ১৬:০০, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
জিঘাংসা
ছবিঃ অন্তর্জাল, প্রতীকী

(২০১৫ সনের ঘটনা ও লেখা। প্রাসঙ্গিক হয়ে আবার ফিরে এলো! সামান্য এডিট করে পোস্ট করলাম।)

২০১৪ সালের জুন মাস। ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমাহলের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। হলে ম্যাটিনি শো চলছে। পাশের উঁচু রাস্তার ওপরে সস্তা জুতা-স্যান্ডেল ও বিড়ি-সিগারেটের সাময়িক দোকান। সিনেমা হলের সামনের জায়গাটায় হঠাৎ প্রচণ্ড ভিড়, চিৎকার চেচামেচি।একটা পকেটমার ধরা পড়েছে!

মুহূর্তের মধ্যে চারপাশের সবার চোখে মুখে আনন্দের দ্যুতি খেলে গেল। একটু দূরে রাস্তার ওপরে  কয়েক যুবক মিলে একটা কিশোরকে পেটাচ্ছে। কেউ খালি হাতে, কেউ  ফুট পাথের ওপরের দোকান থেকে সস্তা জুতা বা প্লাস্টিকের স্যান্ডেল দিয়ে। দোকানি হা করে তাকিয়ে আছে। কয়েকজন পথচারী পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। তারাও সাথে যোগ দিল। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে এক দঙ্গল লোক জমে গেল। থেকে থেকেই নতুন কেউ না কেউ যোগ দিচ্ছে। সবাই আনন্দিতভাবে কিল ঘুষি মারছে, লাথি মারছে। ছেলেটা রক্তাক্ত হয়ে গেলেও কেউই থামছে না। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থা থেকে পড়ে গিয়ে মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে। হয়তোবা মরেও যাচ্ছে। কিন্তু সেদিকে কারুরই খেয়াল নেই। নিবিষ্টভাবে তারা মেরেই চলেছে।

Advertisement

এর মধ্যে কেউ একজন জিজ্ঞেস করল, “কার মানিব্যাগ চুরি করেছে?” কোনো উত্তর পাওয়া গেল না! তবে লোকজনের মধ্যে বেশ খানিকটা হতাশা দেখা দিল। কয়েকজনই হাত গুঁটিয়ে নিলো। যুবক বয়সী একজন বলল, “মানিব্যাগের মালিক যেই হোক, এই ব্যাটাই চোর!” তার কথায় সবার ভেতরে আবার নতুন করে উদ্দীপনা দেখা দিল। সবাই মিলে শুয়ে থাকা কিশোরের শরীরে ইচ্ছেমতো লাথি মারতে লাগল। একজন বলল, "পুলিশ আসছে!" সবাই সচেতন হলো একটু। আরো একটা করে লাথি দিয়ে পরিতৃপ্ত হয়ে সবাই যার যার পথে পা বাড়ালো! সমাপ্ত

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!