নৌ-যাত্রা
আমরা সবাই নৌকার দুইপাশে বসেছিলাম। আমাদের প্রত্যেকেই ছিল একা। কেউ কারো সাথে পরিচিত বা সম্পর্কিত নয়। কিছুক্ষণ পর নৌকার চালক এলো। মোটর চালু করল।
সে ছিল খুবই সুন্দরী এক মেয়ে। তাকে দেখার পর আমার হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেল। দেখতে পেলাম, আমি একটা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি। মেয়েটি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। সময়কালটা আমার শৈশব ও কৈশোরের মধ্যবর্তী কোনো সময়, যখন বয়ঃসন্ধিক্ষণ পেরিয়ে আমি ক্রমশ পুরুষ মানুষে পরিণত হচ্ছিলাম।
চালক মেয়েটি খুব দ্রুততার সাথে নদী পার করে নিয়ে যাচ্ছিল আমাদের। আমি একদৃষ্টিতে তার মাথার দিকে তাকিয়েছিলাম। নদীর ওপরের দমকা বাতাসের সাথে পাল্লা দিয়ে আমার হৃদয় কাঁপতে লাগল। মনে মনে ভাবলাম, মেয়েটির পাশে গিয়ে বসি। বোঝার জন্যে যে, সে আমাকে কেমনভাবে গ্রহণ করেছে।
কিন্তু পর মূহুর্তেই নিজেকে আবিষ্কার করলাম নগরীর একটি গরীব এলাকার গলিতে। এলাকাটি সম্ভবত আল ঘুরিয়া। অনেক মানুষজন সেখানে ভিড় করেছিল ইমাম হুসাইনের জন্মদিনের ভোজ উৎসবে। মেয়েটিকে দেখলাম সেই আঁকাবাঁকা গলিপথ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, ভিড় ঠেলে। আমি তাড়াতাড়ি তার কাছে পৌঁছার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু গলিটি জনাকীর্ণ ছিল শহিদ ইমামের জন্মোৎসবে শরীক হওয়া উদ্বেলিত স্তবকারীদের দিয়ে। আমার পক্ষে মেয়েটির কাছে যাওয়া সম্ভব হলো না।
আমি দ্রুত নৌকায় ফিরে গেলাম। নিজের আসনে গিয়ে বসলাম। ইতিমধ্যেই নৌকাটি অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছিল। অবাক হয়ে দেখতে পেলাম নৌকার চালক হিসেবে বসে আছে এক বর্ষিয়সী মহিলা। চিন্তাক্লিষ্ট মুখ নিয়ে। আমি চারদিকে তাকিয়ে অনুপস্থিত কমবয়সী মেয়েটিকে খুঁজলাম। কিন্তু নৌকাটিতে আর কাউকেই দেখতে পেলাম না। শুধু খালি আসনগুলো ছাড়া। সুতরাং আমি বুড়ি মহিলাটিকে হারিয়ে যাওয়া সেই সুন্দরী মেয়ে সম্পর্কে জিগ্যেস করা শুরু করলাম।