রওশন রুবীর কবিতাত্রয়

ঢাকা, বুধবার   ০৬ জুলাই ২০২২,   ২২ আষাঢ় ১৪২৯,   ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

রওশন রুবীর কবিতাত্রয়

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৭ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

চারুকলা অনুষদ
রওশন রুবী

তারা দৃষ্টি খুলে রাখে
পার্থক্য বোজে না, পড়তে জানে না।
মানুষের সম্মানে মানুষের কাছে যাই,
ফের দূরে থাকি, অথচ তারা দূরগামী,
নিকট সীমানায় অযথাই দেয়াল তুলে বলে-
বিদায়...
সহজে কি ছুটি পায় যদি ছুটি দিতে না চায়?
বিদায়ে কি বাড়ে দূরত্ব?
আমি কোনদিন রাত জাগতে চাইনি,
যারা রাত জাগে তারা জানে
পৃথিবীর রাতগুলো ভীষণ একাকী, নিঠুর।
মানুষের একাকিত্বের কবিতা ভালো লাগে,
আমাকে পোড়ায় কবিতা, পুড়তে চাইনি,
তবু পুড়ে যাই, নিমগ্ন-ধ্যান পুড়ে যাই।
হাফরের বাতাসে জ্বলে জ্বলে জ্বলন্ত আমি
বিদায়ে ঘুমাবো জেনেও
আগোছালো বিছানায় রোজ খুঁজি ঘুম;
ফুলের গন্ধের জন্য অস্থির হয়ে উঠি;
জেগে থেকে জপি তাঁর নাম।
তিনিই প্রশ্রয় আশ্রয়ে জেগে আছেন
চারুকলা অনুষদ।

০২.
দুরন্ত দুপুর সামলে যেও
রওশন রুবী

দুরন্ত দুপুর সামলে যেও
হাসপাতালের বারান্দাটায় অনেক দিনের
বিকেল জমা,
জমকালো সব রোগের পাশে একটু বসো,
আস্তে যেও...
প্রতিবেশী বাইরে যাবে,
ঝালমুড়ি আর নোনতা স্বাদে
সন্ধ্যা-জমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
আমার  পাশে একটু বসো...
তুমিই জানো আত্মীয়দের অভাব কত
নিংরে আছে সমস্তটায়, ক্ষতিগ্রস্ত হৃদ-মাজারে।
ধীরে যেও...অনেক কথা
হাসপাতালের বারান্দাতে জমিয়ে রাখা।

০৩.
ছুঁতে পারে দীর্ঘশ্বাস
রওশন রুবী

অভিমান কতো বড় হলে ছুঁতে পারে দীর্ঘশ্বাস
বলতে পারো সুলেখা?
কতদিন বাড়ি না ফিরলে মুসাফির হয়?
সদ্যজাতকের কান্না বুকে দাঁড়িয়ে আছে ফুলমৌসুম,
আমি তোমার জন্য প্রচন্ড-শীত উপেক্ষা করেছি,
গ্রীষ্মের দাবদাহ ঠেলে সামনে এগিয়েছি,
কবে কবে পাতাগুলো ঝরে গেছে, ছায়াহীন শ্মশান;
বিধবার ক্রন্দন ক্রমশ সকাল দুপুর বিকেল রাত্রি হয়ে
বহুদিন বহুপথ অতিক্রম শেষে
ভূমিহীন আমার বুকে আশ্রয় নিয়েছে।

অভিমান কতো বড় হলে দেখবে না শালিক, চড়ুই।
রাঁধাচূড়া, বকুল, গোলাপ- ভরবে না অস্থির-মন,
ঘাসফুল হাতে নিয়ে আঁকবে না স্বপ্নতিলক,
ক্যানভাসে খদ্দেরের ভিড়ে খন্দকার বাড়ির ফটক ঝোলাবে না চাঁদমূখী ভোর।
শহর কী গ্রাম, নদী কী বন্দর, লক্ষ্মীপুর কী তেঁতুলিয়া,
বাংলাদেশ কী জাপান সব যেন ওজন স্তরের
নিচে নেমে যাওয়া কোন এক বিমূর্তসময়,
যার ক্রিয়া-প্রতিক্রয়া নেই; ব্যর্থতা সফলতা নেই; হাইব্রিড কণ্ঠের তর্জমা নেই।
সব যেন আটোমেটিক মেশিনের অবিকল।

অভিমান কত বড় হলে দূরত্ব-ঘোড়া গতি বাড়িয়ে ছোটে, ছুটতেই থাকে; সুলেখা তুমি কি জানো?

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »