যেসব গাছ অক্সিজেন বেশি দেয়
সকল গাছই অক্সিজেন দেয়। গাছ যেমন চোখের আরাম দেয়, তেমনই ফুল, ফল দিয়ে ভরিয়েও রাখে আমাদের । শুধু তাই নয়, আমাদের বেঁচে তাকার জন্য অন্যতম অক্সিজেন সরবরাহ করে এটি । শহর বা গ্রামের ঘর-বাগান, স্কুলের প্রাঙ্গণ ও মাঠের পরিবেশে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেশি জনসংখ্যা এবং গাড়ির ধোঁয়া আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই পরিবেশকে সবুজ রাখা এবং অক্সিজেন উৎপাদনকারী গাছ লাগানো অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিটি সবুজ গাছই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন নির্গত করে। তবে পাতার আকার, গাছের বিস্তার এবং বিশেষ মেটাবলিক প্রক্রিয়ার কারণে বাংলাদেশে সহজে পাওয়া যায় এমন কিছু গাছ যা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি অক্সিজেন তৈরি ও বাতাস বিশুদ্ধ করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু গাছ তুলনামূলকভাবে বেশি অক্সিজেন উৎপন্ন করে। উদাহরণস্বরূপ, পলাশ, বট, আম, তাল, মেহগনি, বকুল ও আকাশমনি। এই গাছগুলো বড় পাতার এবং দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যার ফলে তারা বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং বেশি অক্সিজেন উৎপন্ন করে।
.png)
বাংলাদেশে এমন ৫টি উচ্চ অক্সিজেন প্রদানকারী গাছঃ
১. অশ্বত্থ গাছ (Peepal Tree / Ficus religiosa)
অশ্বত্থ গাছের একটি প্রধান সুবিধা হল এটি বিশ্বের সবচেয়ে অক্সিজেন উৎপাদনকারী গাছগুলির মধ্যে একটি এবং বাতাসকে বিশুদ্ধ করার ক্ষমতার জন্য পরিচিত। একটি পরিপক্ক পিপল গাছ দিনে ৯-১০ জনের জন্য অক্সিজেন উৎপাদন করতে পারে। উপরন্তু, অশ্বত্থ গাছ বায়ু থেকে দূষক শোষণ করে বায়ু দূষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া নানান পাখি এখানে আশ্রয় নেয়। গাছের শিকর মাটির গভীরে প্রবেশ করে ও মাটি শক্ত করে ধরে রাখে।
অশ্বত্থ গাছের মহান আধ্যাত্মিক এবং পরিবেশগত গুরুত্ব রয়েছে এবং তাই এটিকে পবিত্র গাছ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। অশ্বত্থ গাছ নিজেই একটি সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র এবং এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গাছ।এই গাছ বাঁচিয়ে রাখুন আর যতো সম্ভব এই গাছ রোপন করুন
২. বট গাছ (Banyan Tree / Ficus benghalensis)
বট গাছের বিশাল আকৃতি এবং সুবিশাল ডালপালার কারণে এর মোট পাতার উপরিভাগ অনেক বেশি। পাতাকুঁড়ি ও সবুজ পাতার প্রাচুর্য থাকায় এটি বিপুল পরিমাণে সালোকসংশ্লেষণ সম্পন্ন করে এবং অন্যান্য সাধারণ গাছের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অক্সিজেন নির্গত করে।
৩. নিম গাছ (Neem Tree / Azadirachta indica)
নিম গাছ দিনের বেলায় বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন তৈরির পাশাপাশি বাতাসকে প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে পরিষ্কার রাখে। এটি বায়ুমণ্ডলের ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস শোষণ করে এবং পরিবেশ ঠাণ্ডা রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
৪. অর্জুন গাছ (Arjun Tree / Terminalia arjuna)
গ্রামের মেঠোপথ কিংবা রাস্তার ধারে বেড়ে ওঠা এই বড় চিরহরিৎ গাছটির পাতা অত্যন্ত ঘন। এর চওড়া ক্যানোপি বাতাস থেকে কার্বন দ্রুত সেকুয়েস্ট্রেশন (আটকে রাখা) করে প্রচুর অক্সিজেন নির্গত করে।
৫. জাম গাছ (Jamun / Black Plum / Syzygium cumini)
জাম গাছ অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এর পাতার ঘনত্ব অনেক বেশি। বাতাস থেকে সালফার ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইডের মতো দূষিত উপাদান শোষণ করে বিশুদ্ধ অক্সিজেন ফিরিয়ে দিতে এটি বেশ কার্যকরী।
বৃক্ষ আমাদের দেয় নিঃস্বার্থভাবে—অক্সিজেন, ছায়া, ফল, আর জীবনের প্রশান্তি।
কিন্তু মানুষ অনেক সময় সেই বৃক্ষের প্রতিদান দেয় কাটা, ধ্বংস আর অবহেলার মাধ্যমে।
যে গাছ আমাদের শ্বাস নিতে সাহায্য করে, তাকেই আমরা নিজের স্বার্থে নিঃশেষ করি—এ এক গভীর আত্মঘাতী আচরণ।
প্রকৃতি কখনো প্রতিশোধ নেয় না, কিন্তু তার ভারসাম্য নষ্ট হলে তার প্রভাব আমাদের জীবনেই ফিরে আসে।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার : প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন