ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে মায়ের বুকে ফিরিয়ে দিল ফেসবুক

মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:১৫, ১ ডিসেম্বর ২০১৯
হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে মায়ের বুকে ফিরিয়ে দিল ফেসবুক
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু সোবহান। শনিবার সকালে হারিয়ে যায় সে। এরপর থেকেই সন্তানকে ফিরে পেতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন বাবা-মা। দিনভর খুঁজেও কোনো সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে সন্তানের আশাই ছেড়ে দেন তারা। অবশেষে নিখোঁজ সোবহানকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিল ফেসবুক।

সোবহান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার অনুপমপুর গ্রামের মোক্তার আলীর ছেলে। মোক্তার নিজেও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। রোববার দুপুরে সোবহানকে মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেন মাগুরা সমাজসেবা অধিদফতরের কর্তৃপক্ষ।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় অনুপমপুর গ্রাম থেকে মাগুরায় চলে আসে সোবহান। শহরে কলেজপাড়া এলাকায় একটি সড়কে তাকে খুঁজে পান মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী তাপস বিশ্বাস।

Advertisement

তিনি শিশুটির কোনো অভিভাবক না পেয়ে সদর থানায় নিয়ে যান। শিশুটি নিজের ও গ্রামের নাম চাপড়াইল ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেনি। এ অবস্থায় পরিচয় জানতে চেয়ে শিশুটির একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন মাগুরার সাংবাদিক রূপক আইচ। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই ভিডিওটি শেয়ার করেন।

মাগুরার ডিসি আশরাফুল আলম বিষয়টি জেনে সমাজসেবা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. জাহিদুল আলমের মাধ্যমে শিশুটিকে শিশু পরিবারে রাখার ব্যবস্থা করেন।

এ সময় বিভিন্ন জায়গায় শিশুটির সন্ধানে প্রচেষ্টা চালায় মাগুরা সদর থানা পুলিশ, সমাজসেবা অধিদফতর ও সাংবাদিকরা। রাতেই ফেসবুকের মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়লে শিশুটির পরিবারকে খবর দেন ঝিনাইদহের স্থানীয় এক ব্যক্তি।

এদিকে সন্তানকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা মর্জিনা বেগম। তিনি বলেন, শনিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে একাই লাটা গাড়িতে চড়ে মাগুরা শহরে চলে আসে সোবহান। সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাইনি। রাত ৯টায় প্রতিবেশী এক যুবক ফেসবুকে সোবহানের ছবি দেখে আমাকে খবর দেন। পরে রোববার সকালে মাগুরায় আসি।

জেলা সমাজসেবা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. জাহিদুল আলম জানান, রোববার দুপুরে উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে শিশুটিকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়। তাদের যাতায়াত ও খাওয়ার জন্য কিছু টাকাও দেয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুটি ও তার বাবাকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়ার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!