ঢাকা,  রোববার   ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

সবাই মিলে করি দান, রক্তে বাঁচে রোগীর প্রাণ

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:১৬, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০
সবাই মিলে করি দান, রক্তে বাঁচে রোগীর প্রাণ
ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

তারা কেউ রক্ত দিয়ে রোগীর পাশে দাঁড়ান। কেউবা আবার রক্ত দেয়া স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে রোগী পাশে যান। সবাই হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। যারা রক্তদানে জড়িয়ে আছে তাদের গল্প বলছেন মিরাজুল মিশকাত।
  
তুষার বসাক, পরিসংখ্যান বিভাগ

ছোটোবেলায় রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে ভয়ে কয়েকবার পালিয়ে এসেছিলাম। কারণ সিরিঞ্জ খুবই ভয় পেতাম। এখন ভয়কে জয় করা শিখেছি। এ নিয়ে চতুর্থবার রক্ত দিলাম। প্রথম রক্ত দিয়েছিলাম ‘রেড স্বস্তিকা’ (হাবিপ্রবি সনাতন বিদ্যার্থীদের নিয়ে গঠিত সংগঠন) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের এক আপু ফোন করে অনুরোধ করেছিলেন। 

ভয়ে ছিলাম। কিন্তু রক্ত দেয়ার সময় বাড়তি ভালোলাগা কাজ করে। সবাই ভাবে রক্ত দিলে কি না কি হয়ে যায়। আসলে বিষয়টা তেমন কিছুই না। জীবনের সেরা অনুভূতিগুলোর একটি ছিলো রক্ত দেয়ার সময় অতিবাহিত ওই দুই মিনিট। রোগী ছিলেন থেলাসেমিয়ায় আক্রান্ত। আসলে রক্ত দিতে চাইলে মনে সাহস থাকাটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাই আসুন, সবাই মিলে করি দান রক্তে বাঁচুক রোগীর প্রাণ’। 

জারিন তাসনিম খান, কৃষি অনুষদ

২০১৪ সালের ২ আগস্ট। হঠাৎ একদিন বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিকেল হাসপাতাল দেখতে গিয়েছিলাম। একজন ছেলে এসে জিজ্ঞেস করল, আপু আপনার ব্লাডগ্রুপ কী? জবাব দিলাম- বি+। সে বলল- আমার ছোটোবোন হওয়ার পরপরই রক্তশূন্যতায় ভুগছে, ডাক্তার বলেছেন অতিসত্বর রক্ত দিতে হবে। কোনোরকম সাত-পাঁচ না ভেবেই রাজি হয়ে যাই জীবনের প্রথম রক্তদানের জন্য। সেদিন সেই ছেলেটার খুশিতে চোখ ছলছলের দৃশ্যটা ছিল অমূল্য। এরপর যথাক্রমে একজন গর্ভবতী নারী, টিউমার অপারেশনের রোগী কিংবা কিডনী ডায়ালাইসিসের ছেলেকে রক্ত দিয়েছি। ভয় পাইনি কখনোই। নিজেও রক্তদান করি। অন্যদেরও উৎসাহিত করি। 

তানভির রিফাত, ইইই

৩ এপ্রিল ২০১৯। ক্লাস ছিলো হঠাৎ করেই অচেনা এক নাম্বার থেকে কল আসে। জরুরি ভিত্তিতে নাকি A+ রক্ত লাগবে। তবে তখনও আমার রক্ত দেয়ার সময় হয়নি কারণ তার ঠিক তিনমাস আগে আমি এক মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দিয়েছিলাম। তাকে বললাম আমারতো এখনো সময় হয়নি। তারপর ফোনটা কেটে দেই। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে পরক্ষণে অনেক ভাবলাম। রোগী ছিলেন প্রসূতি মা। অপারশনের জন্য রক্ত লাগবে। আমি রক্ত দিলে একটা সুন্দর শিশু এই পৃথিবীতে আসতে পারবে। আবার ফোন ব্যাক করলাম তরপর বড় ভাইয়ের ঠিকানা অনুযায়ী সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতাল দিনাজপুরে চলে যাই। হাসপাতালের পরিবেশটি অনেক ভালো ছিলো। বেশ কয়েকবার রক্ত দিয়েছি কিন্তু এখানেই প্রথমবার ক্রস টেস্টের পাশাপাশি আরো বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিদায় বেলায় রোগীর স্বামী ও বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে একটা বিষয় উপলদ্ধি করতে পেরেছিলাম যে জীবনে হয়ত আরো একটি ভালো কাজ করতে পারলাম।

শাহনিয়াজ সাঈদ সাদ, পরিসংখ্যান বিভাগ

এখন পর্যন্ত মোট চারবার রক্ত দিয়েছি বিভিন্ন রোগে আক্রন্ত অসুস্থ রোগীকে! তবে প্রথমবার রক্ত দিতে গিয়ে ভয়তো একদমই পাইনি বরং খুব বেশি রোমাঞ্চিত ছিলাম। শুধু বারবার মনে হচ্ছিলো আমি অসুস্থ রোগীতে নতুন করে প্রাণ ফিরে দিতে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরে (২৮ অক্টোবর ২০১৮) ডায়াবেটিকসে আক্রান্ত একব্যক্তির অপারেশন জনিত কারণে প্রথমবার রক্ত দেই। মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত থাকলে আগামীতে এভাবে রক্তদানের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। 

শিউলী আক্তার পপি, পরিসংখ্যান বিভাগ

ভালোলাগে বিপদে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোঁটাতে। ভালো লাগে অন্যের ভালো থাকার কারণ হতে পারলে। ভালো লাগার মাত্রা আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায় যদি মুমূর্ষু ব্যক্তির সেবায় দুই হাত বাড়িয়ে দিতে পারি! এই অনুভুতির কথা লিখে ব্যক্ত করা কখনোই সম্ভব নয়। যতদূর মনে পড়ে প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় আমার পরিচিত এক ব্যক্তির রক্তের অভাবে মৃত্যু হয়। যা আজও স্মৃতিতে ভেসে উঠে। ঠিক তখন থেকেই মনে হতো আমি কবে মানুষকে রক্ত দান করতে পারবো? 

প্রথম রক্তদান করি ২০ জুলাই ২০১৮। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরে ক্যান্সারে আক্রন্ত এক রোগীর জন্য প্রথম রক্ত দান করি। রক্তদানকে আমি দান বলব না, এটি সুস্থ মানুষের নৈতিক দায়িত্বের মাঝে পরে! রক্তদানের পরে যে অনুভূতিটা পেয়েছি তা কোটি টাকার লটারি জিতেও হয়তো পেতাম না। অসহায় মানুষকে সহায়তা করার একটি বড় মাধ্যম হচ্ছে রক্তদান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!