ঢাকা,  বুধবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

মানব হত্যার সূচনা যেভাবে

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮:১০, ৪ মার্চ ২০২০
মানব হত্যার সূচনা যেভাবে
পৃথিবীতে যত মানবহত্যা সংঘটিত হয়, তার গুনাহের একাংশ কাবিলের কাঁধে বর্তায়-ফাইল ফটো

পৃথিবীতে মানব হত্যার সূচনা হয় হজরত আদম (আ.) এর পুত্র কাবিলের মাধ্যমে। পবিত্র কোরআনুল কারিমে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, 

وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَاَ ابْنَيْ اٰدَمَ بِالْحَقِّ اِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنْ اَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الْاٰخَرِؕ قَالَ لَاَقْتُلَنَّكَؕ قَالَ اِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللهُ مِنَ الْمُتَّقِيْنَ

তুমি তাদেরকে আদমের দু’পুত্রের বিবরণ সঠিকভাবে বর্ণনা করো। যখন তারা কোরবানি করেছিল তখন তাদের একজনের কোরবানি কবুল করা হয়েছিল এবং অপরজনের কোরবানি কবুল করা হয়নি। (যার কোরবানি কবুল করা হয়নি) সে বলল, ‘অবশ্যই আমি তোমাকে হত্যা করব।’ তখন অপরজন বলল, ‘আল্লাহ একমাত্র মুত্তাকিদের কোরবানিই কবুল করে থাকেন।’ (সূরা : মায়িদা, আয়াত : ২৭)। 

Advertisement

কিন্তু নিরপরাধ হাবিল উদ্ধত কাবিলকে হত্যা করতে রাজি ছিল না। পরের আয়াতে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,

لَئِن بَسَطتَ إِلَيَّ يَدَكَ لِتَقْتُلَنِي مَا أَنَاْ بِبَاسِطٍ يَدِيَ إِلَيْكَ لَأَقْتُلَكَ إِنِّي أَخَافُ اللّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ

(হাবিল বলল) ‘যদি তুমি আমাকে হত্যা করার জন্য আমার দিকে তোমার হাত বাড়াও, তবুও আমি তোমাকে হত্যা করার জন্য তোমার দিকে হাত বাড়াব না। কেননা আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ (সূরা: মায়িদা, আয়াত : ২৮)।

اِنِّيْۤ اُرِيْدُ اَنْ تَبُوْٓءَ بِاِثْمِيْ وَاِثْمِكَ فَتَكُوْنَ مِنْ اَصْحَابِ النَّارِۚ وَذٰلِكَ جَزَآءُ الظَّالِمِيْنَ

‘আমি চাই, তুমি আমার ও তোমার গুনাহের বোঝা বহন করো, তারপর তুমি জাহান্নামবাসীদের মধ্যে শামিল হয়ে যাও। আর এটাই হলো অত্যাচারীদের (প্রকৃত) শাস্তি।’ (সূরা: মায়িদা, আয়াত : ২৯)। 

এরপর কাবিল তার ভাই হাবিলকে হত্যা করল। 

فَطَوَّعَتْ لَهٗ نَفْسُهٗ قَتْلَ اَخِيْهِ فَقَتَلَهٗ فَاَصْبَحَ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ

তার প্রবৃত্তি তার ভাইকে হত্যা করার উস্কানি দিল এবং সে তাকে হত্যা করল। ফলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শামিল হয়ে গেল। (সুরা মায়িদা : ৩০)। 

ভাইকে হত্যা করে কাবিল চরমভাবে লজ্জিত হলো।

فَبَعَثَ اللهُ غُرَابًا يَّبْحَثُ فِى الْاَرْضِ لِيُرِيَهٗ كَيْفَ يُوَارِيْ سَوْاَةَ اَخِيْهِؕ قَالَ يَا وَيْلَتَاۤ اَعَجَزْتُ اَنْ اَكُوْنَ مِثْلَ هٰذَا الْغُرَابِ فَاُوَارِيَ سَوْاَةَ اَخِيْۚ فَاَصْبَحَ مِنَ النَّادِمِيْنَ

তারপর আল্লাহ তায়ালা একটি কাক পাঠালেন। কাকটি মাটি খুঁড়তে লাগল তাকে দেখানোর জন্য যে, কীভাবে সে তার ভাইয়ের লাশ লুকিয়ে রাখবে। (এসব দেখে) সে বলল, ‘হায়! আমি কি এ কাকের মতোও হতে পারলাম না যে, আমার ভাইয়ের লাশ লুকিয়ে রাখতে পারি?’ অতঃপর সে লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। (সূরা : মায়িদা, আয়াত : ৩১)।

মহান আল্লাহ একটি কাকের মাধ্যমে আদম (আ.) এর বিভ্রান্ত ছেলেকে তার মূর্খতা সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। ফলে যখন সে নিজের মনের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করার সুযোগ পেয়েছে তখন তার লজ্জা কেবলমাত্র এতটুকু বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি যে, সে লাশ লুকানোর কৌশল বের করার ব্যাপারে কাকের চেয়ে পেছনে থেকে গেল বরং তার মনে এ অনুভূতিও জন্ম নিয়েছে যে, নিজের ভাইকে হত্যা করে সে কত বড় মূর্খতার পরিচয় দিয়েছে।

এটিই ছিল পৃথিবীর প্রথম মানবহত্যা। এ কারণে পৃথিবীতে যত মানবহত্যা সংঘটিত হয়, তার গুনাহের একাংশ কাবিলের কাঁধে বর্তায়।

প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

‏ لَا تُقْتَلُ نَفْسٌ إِلَّا كَانَ عَلَى ابْنِ اٰدَمَ الْأَوَّلِ كِفْلٌ مِ

‘অন্যায়ভাবে যত মানুষকে হত্যা করা হয়, তার অপরাধের একটা অংশ আদম (আ.) এর প্রথম সন্তান কাবিলের ওপর বর্তায়।’ (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!