চবিতে ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে শাবি শিক্ষার্থীরা
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা চলবে বেলা ১১টা পর্যন্ত। এরপর দুপুর ২.৩০ থেকে শুরু হবে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষা চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।
এদিকে আগামীকাল শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। তাই যারা এখানে পরীক্ষা দিতে এসেছেন তাদের অনেকেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ক্যাম্পাসের মূল গেট থেকে বাসের ব্যবস্থা করেছেন শাবির কয়েকজন শিক্ষার্থী। অভিযোগ উঠেছে যেসব ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী এখান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির পরীক্ষা অংশ নিতে যাচ্ছেন তাদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে বেশি ভাড়া।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী পরিহন স্বল্পতার সুযোগ নিয়ে এ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। যারা পরিবহন সেবার নামে নিম্নমানের বাস সংগ্রহ করে সাধারণ পরিহন থেকে জনপ্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি নিচ্ছে। যেখানে একই রুটের বিআরটিসি বাস সার্ভিসের ভাড়া ৬০০ টাকা, এনা, সৌদিয়াসহ অন্যান্য পরিবহনের ভাড়া সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা সেখানে এরা জনপ্রতি ১০০০ টাকা করে নিচ্ছে।
খুলনা থেকে আগত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আখতার হোসেন বলেন, আজ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা শেষে আগামীকাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাং অংশগ্রহণ করবো। এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ইচ্ছা থাকায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেট থেকে বাস যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে। তাই শাবি শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলামের কাছে যোগাযোগ করি। তিনি শাবির মূল ফটকের সামনে একটি রেস্টুরেন্টে দেখা করতে বলেন। সেখানে গেলে আমার কাছে জনপ্রতি ভাড়া চান ১০০০ টাকা।
একই বিভাগ থেকে আগত বদিউর রহমান জানান, শাবি শিক্ষার্থী অপু পালের কাছে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী বাসের টিকিট কিনতে চাইলে তিনি জানালেন ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ১০০০ টাকা।
শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ধরণের অসাধু ব্যবসায়ের অভিযোগ উঠেছে শাবি শিক্ষার্থী শাহ মোহাম্মদ শাকিলের বিরুদ্ধেও। সূত্রমতে, সেই এ সিন্ডিকেটের মূল হোতা।
এ বিষয়ে আমিনুল-মাহবুবুর সিন্ডিকেটের মাহবুবুরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখন ভার্সিটির গেইটে আছি। আপনি আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে গেইটে চলে আসুন। আমি সামনাসামনি ছাড়া কথা বলবো না।
আলমগীর-অপু সিন্ডিকেটের আলমগীরের কাছে জানতে চাইলে বলেন, অন্যদের দেখাদেখি ভুলবশত আমরা কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১০০০ টাকা নিয়েছি। এটা আমাদের ভুল হয়েছে। ৮০০ টাকার অতিরিক্ত টাকা সবাইকে এখনই ফিরিয়ে দিব।
সিন্ডিকেট হোতা শাকিলের কাছে এ বিষয়ে জানতে ফোন দিলে তার বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে শাবি শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রোমান বলেন, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষার্থে সিলেট চেম্বার অব কমার্স বিনামূল্য ২০টি বাস সার্ভিস দিচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন বাইকার্স টিম বিনামূল্য বাইকার্স সেবা দিবে। নগরীর বিভিন্ন পরিবহনের চালকরা তাদের নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কোনো শিক্ষার্থীকে হয়রানি করবে না বলে প্রশাসনকে আশ্বস্থ করেছে। সেখানে শাবি শিক্ষার্থীদের এ ধরণের অসাধু ব্যবসা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ ধরনের সিন্ডিকেট চক্রের শাস্তির দাবি করছি।
শাবি প্রক্টর অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সব প্রকার অসাধু কার্যকালাপের বিরুদ্ধে শাবি প্রশাসন জিরো টলারেন্সে রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।