আট উপায়ে বুঝে নিন আপনি বিষন্নতায় ভুগছেন
ভালো-মন্দ মিলিয়েই মানুষের জীবন। কিন্তু মাঝা মাঝে এমন পরিস্থিতে পড়তে হয়, যখন নিজেকে বোঝাও দায় হয়ে পড়ে। যার ফলে সবার সঙ্গে সম্পর্কও নষ্ট হতে থাকে।
তাই নিজেকে কিছু বিষয়য়ের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করে নিন। এই উপায়গুলো বুঝতে সাহায্য করবে আপনি বিষন্নতায় ভুগছেন কি না। যদি নিজের সঙ্গে মিলে যায়, তবে অবশ্যই এখন থেকেই নিজেকে বিষন্নতা থেকে দূরে রাখুন। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সেই বিষয়গুলো-
কাজের প্রতি অনীহা
শখের কাজগুলোতে ধীরে ধীরে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে শুরু করবেন। কোন কাজেই উৎসাহ পাবেন না। সারাদিন শুয়ে-বসে থাকাকেই মনে হবে সবচেয়ে সহজ কাজ এবং এর বাইরে সব কাজকেই বোঝা মনে হবে। এক সময় যে কাজে খুব আনন্দ পেতেন ডিপ্রেসশড্ হয়ে যাবার পর সে কাজেও কোনো আগ্রহই খুঁজে পাবেন না।
.png)
খাদ্যাভাসে পরিবর্তন
ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হলে আপনার রেগুলার খাদ্যাভাসে পরিবর্তন দেখা দেবে। হয় আপনি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাবেন আর নয়তো আপনার খাবারে অরুচি দেখা দেবে। এ ফলে আপনার ওজন দ্রুত বাড়বে বা কমতে থাকবে যা আপনার শরীরে বিভিন্ন জটিলতার সৃষ্টি করবে।
দীর্ঘকালীন অনিদ্রা
দীর্ঘ সময় ধরে অনিদ্রা বিষন্নতার একটি লক্ষণ। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যারা বিষন্নতায় ভুগছেন তাদের আশি ভাগেরই অনিদ্রার সমস্যা রয়েছে। যেসব রোগীর দীর্ঘকালীন অনিদ্রাজনিত সমস্যা রয়েছে তাদের বিষন্নতায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবতা তাদের চেয়ে তিন গুণ বেশি যাদের এ সমস্যা নেই। অনেক চিকিৎসকরা বিশ্বাস করেন, অনিদ্রা রোগের যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে বিষন্নতা রোগের তীব্রতা প্রশমন করা সম্ভব। যদি আপনার দীর্ঘকালীন নিদ্রাহীনতাজনিত সমস্যা থেকে থাকে, তবে আপনি হয়তবা বিষন্নতা রোগে ভুগছেন।
অবসাদ
বিষন্নতায় আক্রান্ত হলে অবসাদ আপনাকে গ্রাস করবে। তাই যখন দেখবেন আপনি অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন, কোনো কিছুতেই উৎসাহ পাচ্ছেন না তখন বুঝবেন আপনি একজন ডিপ্রেশনের রোগী।
নিজের মধ্যে গুটিয়ে যাওয়া
বিষন্নতার কারণে আপনি নিজেকে নিজের মধ্যে গুটিয়ে ফেলতে থাকবেন। পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গ ভালো লাগবে না। সামাজিকতা অনেক সময় অসহনীয় হয়ে দেখা দেবে। একাকীত্ব ঘিরে ফেলবে আপনাকে যা আপনার অসুস্থতা আরো বাড়িয়ে তুলবে।
সবকিছুতেই মনোযোগের অভাব
বিষন্নতার ফলে আপনি একটা ঘোরের মধ্যে ঢুকে যেতে থাকবেন। কোনো কিছুতেই ঠিকভাবে মনোনিবেশ করতে পারবেন না। অন্যদের কথা মন দিয়ে শুনতে পারবেন না বা কোনো আলেচনায় অংশ নিতে পারবেন না।
সব বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব
দুঃখবোধ, আশাহীনতা ও হতাশা আপনাকে ঘিরে ফেলবে। সবকিছুতেই নেতিবাচক মনোভাব দেখা দিতে থাকবে।
মাথা ব্যথা ও গাস্ট্রিকের সমস্যা
অনেক সময় নিয়মিত মাথা ব্যথা ও হজমে সমস্যাও ডিপ্রেশনের কারণে হয়ে থাকে।
বিষণ্ণতা কাটানোর উপায়
মৃদু বিষন্নতায় নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। আবার অল্প হলে কারো সঙ্গে শেয়ার করা বা সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বাড়ালে কাজে লাগে। অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন না থাকা। সবার সঙ্গে মেশা। যাদের সঙ্গ ভালো লাগে তাদের কাছে থাকা। মানুষের কাছ থেকে দুরে সরে না যাওয়ার মাধ্যমেও কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এজন্য শারীরিক পরিশ্রম বা শরীরচর্চা করা। রেগুলার ৩০ মিনিট হাঁটা খুবই ভালো। কেউ বাইরে যেতে না পারলে ঘরের মধ্যেই ঘোরাফেরা করতে পারে তাতেও উপকার পাবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানসিকভাবে দৃঢ় থাকা ও আত্মবিশ্বাস রাখা যে আমি পারবো। এজন্য নিজের ইতিবাচক বিষয়গুলোকে ফোকাস করা যেতে পারে। ভালো কাজগুলোর চর্চা করা যেতে পারে। তবে দৈনন্দিন জীবন যাপনের কাজ কিংবা পড়ালেখা বা পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতেই থাকা, আবার কেউ যদি ক্রমাগত নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে মনে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।