অজানা রহস্যের কথা বলে নোবিপ্রবির লন্ডন রোড
হাজারো শিক্ষার্থীর গান, গল্প, প্রেম, ভালোবাসা ও ছবি জড়ানো স্মৃতির নাম ‘লন্ডন রোড’। নাম শুনলেই স্বপ্নের মতো মনে হয়। কল্পনায় ফুটে ওঠে যুক্তরাজ্যের কোনো এক রাস্তা। অবশ্য রাস্তাটি দেখলেও তাই মনে হবে।
কিন্তু না। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ গেট থেকে গেস্ট হাউজ পর্যন্ত যে রাস্তাটি চলে গেছে এটিই লন্ডন রোড। দুপাশে চোখ ধাঁধানো সারি সারি ঝাউ গাছ, গাছগুলো কেবল সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না; লালন করে ক্যাম্পাসের ইতিহাস আর ঐতিহ্য। এটি আকৃষ্ট করে প্রকৃতিপ্রেমী হাজারো মানুষকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীরা শাড়ি-পাঞ্জাবী পরে আসে। ঠিক সে সময় এই রোডটিতে থাকে প্রচণ্ড ভিড়। সবার মাঝে ছবি তোলার এক প্রকার প্রতিযোগিতা কাজ করে। কেউ থাকে সেলফি নিয়ে আবার কেউ সম্মিলিত ছবি তোলায় ব্যস্ত। প্রেজেন্টেশন অথবা মৌখিক পরীক্ষা থাকলে সবাইকে নিয়মমাফিক পোশাকে উপস্থিত থাকতে হয়। পরীক্ষা শেষে সুন্দর পোশাকে নিজেকে ছবির মধ্যে বন্দী করতে সবাই ছুটে যায় লন্ডন রোড।
জানা যায়, ক্যাম্পাসে সর্বপ্রথম পিচঢালা রোড হচ্ছে বর্তমান হতাশার মোড় থেকে সালাম হল পর্যন্ত। তারপর ২০১১ সালের শেষের দিকে ২য় পিচঢালা রোড তৈরি করা হয় মসজিদ গেট থেকে বর্তমান শিক্ষকদের ভবন পর্যন্ত। ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই এই রোডটির নাম দেয় লন্ডন রোড।
কিন্তু কেনো লন্ডন রোড বলা হয়? লন্ডনের রোডের সঙ্গে কি এমন মিল রয়েছে? এমন প্রশ্নে জানা যায়, লন্ডনের এমন কিছু রাস্তার ছবি রয়েছে যেগুলোতে দুইপাশে সারি সারি গাছ আর মাঝখানে পিচ ঢালা রাস্তা রয়েছে। এই ছবির সঙ্গে রোডটির মিল পাওয়ায় হলের কিছু শিক্ষার্থীরা এটাকে লন্ডন রোড নামে ডাকতে শুরু করে। এভাবে শুনতে শুনতে সবার কাছেই এটিই লন্ডন রোড পরিচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক আফসানা মৌসুমির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই রাস্তাটির শেষ প্রান্তে ছিলো শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল। বর্তমানে যেটি টিচার ডরমিটরি। এই রোডকে আবাসিক এলাকার রাস্তা ডাকা হতো। ২০১১ সালে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদেরকে ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলে পাঠানো হয়। যেহেতু রোডের দুপাশে সারি সারি গাছ। পাশে উপাচার্যের বাসভবন দেখতেও চমৎকার। আবার সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে সিকিউরিটি গার্ড রয়েছে। এজন্যই হয়তো লন্ডন রোড নামে ডাকা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষার্থী ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ৭ম ব্যাচের ফাইমুন মাহমুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলদিঘীতে যাওয়ার জন্য যে উন্নত লাইব্রেরি রোড রয়েছে তখন এটি এত উন্নত ছিলো না। নীলদিঘীতে যাওয়ার সহজ রাস্তা ছিল লন্ডন রোড। কাপলদের জন্য ছিলো অন্যরকম অনুভূতি। দুজন একসঙ্গে হাটতে হাটতে নীলদিঘীর পাড়ে বসে গল্পে সময় কাটিয়ে দিত। সুখ দুঃখের কথা শেষে আবার একই রোডে গল্প করতে করতে ফিরে যেতো গন্তব্যে।
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নীলুফা আক্তার বলেন, ক্যাম্পাসের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তা হচ্ছে লন্ডন রোড। কখনো ছবি তোলার ইচ্ছা হলে লন্ডন রোডে চলে যাই। দুপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে যেন এক অন্যরকম অনুভূতি। আবার ক্লাসের ফাঁকে অল্প সময়ের ছুটি পেলেও রোডটির দিকে সবাই একসঙ্গে ছুটে যাই।
ফিসারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হক সৈকত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসর সময়ে বন্ধুবান্ধবরা সেই আবাসিক এলাকায় চলে যাই বর্তমানে যেটা লন্ডন রোড নামে পরিচিত। কখনো বিকেলে হাটতে আবার কখনো বন্ধুরা মিলে ছবি তুলতে যাই। ক্লাস টেস্টের পড়া, অ্যাসাইনমেন্ট, ল্যাব রিপোর্টের ক্লান্তি শেষে একটু স্বস্তিতে নিশ্বাস ফেলতে ঘুরে আসি লন্ডন রোড।